বাকেরগঞ্জে ভিজিএফের কার্ডের জন্য দরিদ্র নারীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬ হাজার টাকা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২০, ২২:৩৬

দেড় বছরেও কার্ড পাননি অনেক হতদরিদ্র নারী

বরিশাল অফিস

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর হতদরিদ্র নারীদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল প্রদান করছে। কিন্তু বাকেরগঞ্জের কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে চাল প্রদানে অর্থ আদায়ের।

জানা গেছে, অনেকে টাকা দিয়েও কার্ড পায়নি, আবার অনেকের নাম তালিকায় থাকার পরও তারা চাল পায়নি। অসহায় দরিদ্রদের ঠকিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাত্ করছেন বলে অভিযোগ তাদের। বাকেরগঞ্জের কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার চাল আত্মসাত্ কিংবা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক।

জানা গেছে, সামাজিক ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বরিশাল জেলায় ২৭ হাজার ৯১৪ জন হতদরিদ্র নারীকে প্রতি মাসে বিনা মূল্যে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিচ্ছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সরকারের এই খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন ৩ হাজার ৩০৭ জন নারী। কবাই ইউনিয়নে ২৪৯ জন নারীর জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম্য চৌকিদাররা কার্ড দেওয়ার কথা বলে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে গণহারে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা করে আদায় করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দুই বছরের কর্মসূচির দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অনেক অসহায়-দুস্থ নারী কার্ড পাননি। আবার তালিকায় নাম থাকার পরও অনেকে বরাদ্দের চাল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান-মেম্বর মিলে হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাত্ করেন বলে অভিযোগ করেন বঞ্চিতরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। 

কবাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার জানান, পরিষদ থেকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার পর কেউ কার্ড বিক্রি করে দিলে তার জন্য তিনি দায়ী নন। তার নাম করে কেউ অর্থ আদায় করলে সেজন্য তিনি দায়ী নন। এদিকে, কবাই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল আত্মসাত্ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। তিনি বলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঐ অভিযোগ তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।