পণ্য রপ্তানিতে ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিতে চায়
রিয়াদ হোসেন
করোনা পরিস্থিতির কারণে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এক অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে এত খারাপ অবস্থা দেখেনি বাংলাদেশ। তবে সরকার মনে করছে, আগামী অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরবে। ফলে সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। এই বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঠিক করতে চায় সরকার। এটি অর্জন হলে তা হবে গত অর্থবছরের চেয়ে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এ ধরনের একটি লক্ষ্যমাত্রার খসড়া তৈরি করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অর্থবছরের চার মাস বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে চলতি অর্থবছর রপ্তানিতে স্বাভাবিক গতি ফিরে এলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য। রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)-এর সভাপতি আব্দুুস সালাম মুর্শেদী ইত্তেফাককে বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য। কেননা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। করোনার কারণে বাংলাদেশের স্থগিত হওয়া পণ্যের রপ্তানি আদেশ ধীরে ধীরে ফেরত আসছে। আবার চীন থেকে ক্রেতারা সরে এলে এই সুযোগ কিছুটা বাংলাদেশ পেতে পারে। সেই হিসেবে সার্বিকভাবে আমাদের রপ্তানি বাড়তে পারে। তবে এজন্য নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষত ক্রয়াদেশ এলেও এর টাকা পাওয়া যাবে দেরিতে। এই সময়ের মধ্যে রপ্তানিকারকদের টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের। আর সেবা রপ্তানি হয়েছিল ৬৩৯ কোটি ডলারের। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি ডলারের কিছু বেশি। আগামী অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে রপ্তানির লক্ষ্যামাত্রা ঠিক করা হতে পারে ৪৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা হবে ২০ শতাংশ। গত অর্থবছর পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কম হয়েছে ২৫ শতাংশ। এছাড়া পূর্বের বছরের রপ্তানি কমেছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসানও মনে করেন চলতি অর্থবছরে নতুন করে করোনার মতো কোনো বিপর্যয় না এলে এবং সরকারের কাছ থেকে নীতিসহায়তা পাওয়া গেলে ২২ শতাংশ পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
