করোনার প্রভাব
এ বছর বিশ্বের ৯০ শতাংশ
দেশে মাথাপিছু আয় কমবে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ত্রিশের দশকে মহামন্দার পর বিশ্ব অর্থনীতি এতটা খারাপ সময় পার করেনি। কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়কার সেই মহামন্দাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর সারাবিশ্বের ৯০ ভাগ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৮৭০ সালের পর এই প্রথম এত দেশ একসঙ্গে ক্ষতির সম্মুখীন হলো। বিনিয়োগ হ্রাস, বেকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয়ও কমে যাচ্ছে। এই প্রভাবগুলো উত্পাদনশীল কমিয়ে দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকৃত আয় কমে যাবে বলে আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংক।
গতকাল প্রকাশিত ‘গ্লোবাল প্রডাক্টিভিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিমারির প্রভাবে অর্থনীতির বহু খাত প্রভাবিত হচ্ছে। বেকার বেড়ে যাওয়া এবং শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া বৃদ্ধি পেলে মানবসম্পদেরও ক্ষতি হবে। বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাবে। কোভিড-১৯-এর প্রভাব কেটে গেলেও উত্পাদনশীলতা দীর্ঘমেয়াদে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান মন্দার কারণে বিশ্ববাণিজ্যে ধস নেমেছে। এর আগে ২০০৭-২০০৯ সময়কালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটকালে উত্পাদনশীলতা কমেছিল। এর পর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও করোনার প্রভাবে এটি আবার নিম্নমুখী হয়েছে। এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিশ্বের ৭০ শতাংশ উন্নত দেশে বিস্তৃত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশসহ বাকিদের মধ্যে ৮০ শতাংশ দেশে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকট শুরু হওয়ার আগের বছর অর্থাত্ ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাপী শ্রমের উত্পাদনশীলতা বেড়েছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। পরের বছর এটি ২ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ঐ সময়কার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরের কয়েক বছর উত্পাদনশীলতা কমেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উত্পাদনশীলতার সম্পর্ক রয়েছে। উত্পাদনশীলতা বাড়লে দারিদ্র্য হারও কমে আসে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উত্পাদনশীলতা বেড়েছে ১৯৮১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে। এসময়ে সারা বিশ্বে হতদরিদ্র্যের হারও প্রতিবছর ১ শতাংশের বেশি হারে কমে আসে। করোনাকালে সবচেয়ে বেশি উত্পাদনশীলতা কমেছে শিল্পকারখানায়। মূলত উদ্ভাবনী, উন্নত শিক্ষা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে শিল্প খাতে শ্রমের উত্পাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। এরকম পরিস্থিতিতে অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতিনির্ধারকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি খরচ উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর মতো বিষয়ে ব্যয় করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
