এনামুল হক, খুলনা অফিস
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে খুলনায় পশুর হাটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন গরুর খামারি ও ব্যাপারীরা। করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসনও ব্যস্ত হাটে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিয়ে। গত ৯ জুলাই থেকে উন্মুক্ত হয়েছে জেলার সকল মার্কেট, শপিংমল ও দোকানপাট। এছাড়া মহানগরীসহ জেলার তিন রেড জোনের লকডাউনও উঠে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে। খুলনার বাইরে থেকে মানুষও কোরবানির জন্য বাড়ি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহায় জেলায় করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত বছর খুলনা মহানগরী ও জেলায় পশুর হাট বসেছিল ৩০টি। তবে এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহানগরীর একটিসহ জেলায় ১১টি স্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবশ্য জেলা প্রশাসন ‘কুরবানি হাট খুলনা’ অ্যাপ এবং ‘কুরবানি হাট খুলনা ডটকম’ নামে ওয়েবসাইটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা চালু করেছে। খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, খুলনায় মোট ৬ হাজার ৮৯০টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে ৪৫ হাজার ১৪৮টি গরু, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আয়োজনে নগরীর জোড়াগেটে কোরবানির পশুর হাট শুরু হবে আগামী ২৬ জুলাই থেকে। এটি মহানগরীর একমাত্র পশুর হাট। এ হাট চলবে ঈদের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত। এই হাটে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পশুর হাটে প্রবেশ করতে হবে।
এদিকে রেড জোন ঘোষিত নগরীর ১৭ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং রূপসার আইচগাতি ইউনিয়নের লকডাউনও ১৬ জুলাই থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে ঈদে সব কিছুই খোলা থাকছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, এবারের ঈদেও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
