দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেলেও কর্মসংস্থান না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বেকারভাতা প্রদানের দাবিসহ ‘ছয় দফা প্রস্তাবনা’ পেশ করে দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে এমন সব সরকারি দপ্তরের দ্বারস্থ হই আমরা। প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস দিলেও কার্যকর সহযোগিতা করেনি। ৯-১০-২০১৯ তারিখে চাকুরী প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্রাজুয়েট পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। তারপর প্রায় নয়মাস পার হওয়ার পথে—এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও প্রণোদনা প্রদানের নিমিত্ত সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অথচ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কাজ করে থাকে এমন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন ও প্রতিবন্ধী ফোরামের মতো সংস্থাগুলো মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে তাদের জন্য কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠী হলেও উচ্চশিক্ষিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের বেকারত্ব আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভিড ১৯-এর ভয়াবহ দুর্যোগ। এতে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ অবস্থায়, ২৫০ জন উচ্চশিক্ষিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং ‘ছয়দফা প্রস্তাবনা’ পূরণসহ বর্তমান সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মো. আলী হোসেন
আহ্বায়ক, চাকুরী প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
গ্রাজুয়েট পরিষদ, ঢাকা
