আবর্জনা কচুরিপানায় ভরাট কালাডুমুর নদের পেট

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ২১:৪০

 ‘কালাডুমুর’। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এ নদীর উত্সমুখ গোমতী নদীর গৌরীপুর এলাকা। এটিকে গোমতীর শাখানদীও বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে খনন না হওয়ায় নদীটির পেট এখন পলি, আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরাট হয়ে আছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার অন্তত চার উপজেলার হাজারো কৃষকের চাষাবাদ। নদীর গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার খনন করা হলে হাসি ফুটবে কৃষকের মুখে। স্থানীয় এলাকার কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নদীটি খননের জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কালাডুমুর নদীর দুই পাড়ের জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর, জিংলাতলী, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন, মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া, চান্দিনা উপজেলার সুহিলপুর ও বাতাঘাসী ইউনিয়ন এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচারসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১২ সহস্রাধিক চাষি এ নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নদীর উত্সমুখে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় কৃষি ও পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। সিংগুলা গ্রামের আনিছ মিয়া, আবুল হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ‘কৃষিকাজে সেচ, গোসলসহ গৃহস্থালি কাজের জন্য পানির চরম সংকটে পড়েছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।’ জিংলাতলী এলাকার প্রবীণ শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই নদী দিয়ে এক সময় পাল তোলা নৌকা চলত। নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বালু-পলি আর কচুরিপানায় নদীর পেট ভরাট হয়ে গেছে।’ স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত মতিন সৈকত বলেন, ‘নদীটি খননের দাবিতে কৃষকরা ১৯৯০ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, প্রতীকী অনশন, কোদাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কৃষি মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করা হয়েছে।’ গৌরীপুরের সমাজসেবী আবুল কাশেম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির লোক রাতের আঁধারে গৌরীপুর বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা কালাডুমুর নদীর উত্সমুখ এবং সংলগ্ন খালে ফেলছেন। এতে ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে আশপাশের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।’ গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম সরকার ও ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এলাকার কয়েকটি মাঠের ফসল রক্ষার্থে কালাডুমুর নদী থেকে মাইথারকান্দি হয়ে ইছাপুর পর্যন্ত খালটি খননের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে।’ দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান বলেন, ‘এ নদীর পানি দিয়ে এই অঞ্চলের চারটি উপজেলার অন্তত ৫০ হাজার বিঘা জমি চাষ হয়। স্থানীয়রা নদীর পাড়ের জমিগুলোকে ফসলের গোলা (উত্পাদন অঞ্চল) বলেন। নদীটি খনন করা জরুরি। তাহলে ফসল উত্পাদন দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।’ দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নদীর উত্সমুখে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘কৃষির উন্নয়নে নদীটি পুনঃখনন করা হবে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী সেচ মৌসুমের শুরুতে পুনঃখনন শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।’