সবকিছুর জন্য তুমিই দায়ী

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ২২:৩২

করোনা সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে থাকা ডা. সাবরিনা চৌধুরী নিজেকে বারবার নির্দোষ দাবি করে সাবেক স্বামী আরিফ চৌধুরীকে দায়ী করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাবরিনা-আরিফ মুখোমুখি হতেই সাবরিনা চিত্কার করে তাকে বলতে থাকেন, ‘আমার কথামতো কাজ করলে আজ এই অবস্থা হতো না। সব কিছুর জন্য তুমিই দায়ী। আমি তোমাকে ছাড়ব না।’ এসময় অনেকটা নীরব থাকেন আরিফ। তারা সেখানে পরস্পরকে  দোষারোপ করেন। পুলিশ তাদের অপরাধের একটি একটি করে প্রমাণ হাজির করলে তারা চুপ থাকেন। সাবরিনা পুলিশকে বলেন, তিনি আরিফের ষড়যন্ত্রের শিকার। 

ডা. সাবরিনা চৌধুরী ওরফে সাবরিনা শারমিন হুসাইনকে আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ আদালতে পাঠাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা একে অপরকে দোষ দিয়েছে।’

এসময়ে ডা. সাবরিনা বেশ ক্লান্ত ছিলেন। চুলগুলো এলোমেলো ছিল। আরিফের মুখোমুখি হওয়ার সময় ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে নেন তিনি। তার আগে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের এক দফা মুখোমুখি করা হয়েছিল। তখনও আরিফের সামনে ক্ষেপে যান সাবরিনা। সাবরিনা জেকেজির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাসে মাসে তার টাকা নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। গুলশানের কনফিডেন্স টাওয়ারে জেকেজি হেলথ কেয়ারের অফিস থেকে জব্দ করা কাগজপত্রের সঙ্গে সাবরিনার ‘টাকা তোলার রশিদ’ পাওয়া গেছে। সেগুলো সাবরিনার সামনে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন পুলিশ কর্মকর্তারা। যদিও সেগুলোকেও ভুয়া বলেছেন ডা. সাবরিনা। ডা. সাবরিনার স্বাক্ষরযুক্ত টাকা তোলার কমপক্ষে তিনটি রশিদ সাবরিনার সামনে তুলে ধরা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতি থেকে উপার্জিত টাকার ভাগ নিয়ে আরিফ ও সাবরিনার মধ্যে বিরোধ ছিল। সাবরিনাকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক দেন আরিফ। কিন্তু ঐ চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। সে কারণে সাবরিনা আরিফকে উকিল নোটিশ পাঠান। তাছাড়া আরিফ গ্রেফতার হওয়ার পরই নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাবরিনা। তিনি তড়িঘড়ি করে আরিফকে তালাকের নোটিশ পাঠান।

ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, জেকেজি ওভাল গ্রুপের অঙ্গ সংগঠন (সিস্টার কনসার্ন)। ওভাল গ্রুপের সাত পরিচালকসহ অনেকেরই এই জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঐ সাত কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া ডা. সাবরিনা ও আরিফের কয়েক জন বন্ধু-বান্ধবী এবং সহকর্মীর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

দুদকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ

করোনার নমুনা সংগ্রহের পর কোনো পরীক্ষা না করেই ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহের মাধ্যমে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ ডা. সাবরিনা ও আরিফের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। কমিশনের উপপরিচালক সেলিনা আক্তার মনিকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলে পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, জেকেজির করোনা সনদ জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো তারা আমলে নিয়ে তদন্ত করছেন। কমিশনের অপর একজন কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে ডা. সাবরিনা ও আরিফের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। তাদের আয়কর নথি তলব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক লেনদেন, অর্থ পাচারসহ সম্পদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।