আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার মাসও বাকি নেই। এরইমধ্যে নিজের প্রচারণা দলের ম্যানেজারকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক জরিপে তিনি ডেমোক্র্যাটের সম্ভাব্য প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে ১৫ শতাংশ পিছিয়ে আছেন। খবর ডয়চেভেলে ও বিবিসির
করোনা মহামারি সামাল দিতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা হচ্ছে। এদিকে হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অ্যান্থনি ফাউচি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই করোনার টিকা পাওয়া যাবে। তিনি তাকে নিয়ে হোয়াইট হাউজের সমালোচনাকে উদ্ভট বলে আখ্যায়িত করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতদিন সমালোচনাকে তোয়াক্কা করেননি। নিজের অনুগামীদের অটুট সমর্থন তাকে সেই আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে। কিন্তু আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ট্রাম্প। তাই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের কাজে নেমে পড়েছেন। সেই প্রচেষ্টার আওতায় দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ব্র্যাড পার্স্কালকে সরিয়ে বির স্টেপিয়েনকে প্রচারাভিযানের দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য তুলে ধরার কৌশলকে প্রাধান্য দিতেই তিনি স্টেপিয়েনকে নিয়োগ করলেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। অবশ্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পার্স্কালকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে দিচ্ছেন। ট্রাম্প ও তার জামাই জারেড কুশনারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বির স্টেপিয়েন এর আগে হোয়াইট হাউজের রাজনৈতিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ২০১৬ সালের সফল প্রচার অভিযানে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পার্স্কাল ও স্টেপিয়েনের প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় কার্যকালের পূর্বাভাস দেন তিনি। প্রচার অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে সংঘর্ষের ওপর ভোটারদের রায় নির্ভর করবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালেও নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের কাছে হেরে যান।
সংক্রামক ব্যাধির শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি আভাস দিয়েছেন, এ বছর শেষ হবার আগেই আমেরিকা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেয়ে যাবে। আমেরিকার ওষুধ প্রতিষ্ঠান মডার্না, করোনা ভাইরাসের যে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে তার পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ফাউচি বলেন, চীন আমেরিকার আগে ভ্যাকসিন পেয়ে গেল কি না সেটা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই। এদিকে কুইনিপ্যাক ইউনিভার্সিটির জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ ভোটার করোনা ভাইরাস ইস্যুতে ফাউচিকে বিশ্বাস করেন। ৩০ শতাংশ বিশ্বাস করেন ট্রাম্প। ইউনিভার্সিটির জরিপে আরো দেখা যায়, বাইডেনের প্রতি ৫২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার এবং ট্রাম্পের প্রতি ৩৭ শতাংশের সমর্থন রয়েছে।
