করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতি মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মামলায় গ্রেপ্তার ডা. সাবরিনা ও আরিফুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের কাজ পাইয়ে দিতে যারা সহযোগিতা করেছেন তারা কেউ এখান থেকে লাভবান হয়েছেন কি না, সেটাও যাচাই করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ওরফে সাবরিনা শারমিন হুসাইন তার স্বামীকে তালাক দেওয়ার নাটক করেছেন। স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে তালাক পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে এর আগে সাবরিনা দাবি করেন। অথচ ডিবিতে তাদের দুই জনকে মুখোমুখি করা হলে, দুই জনের মধ্যে খুবই মিল ও সখ্য দেখেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। অর্থাত্ বাইরে বলে এক কথা, আর রিমান্ডে বলে আরেক কথা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে ‘স্বামী’ আরিফুল চৌধুরীর জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা তথা জেকেজি হেলথকেয়ারকে সরকারি কাজ পাইয়ে দিতেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী। ফলে করোনার এ দুর্যোগকালে জেকেজি হেলথকেয়ার প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়।
জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা তথা জেকেজি হেলথকেয়ারের কোনো কার্যক্রমই যথাযথভাবে চলছে না। জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অনুমোদন নেওয়া হয়নি। শুধু সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স আছে। তাও নেওয়া হয়েছে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার অনুমোদনের পরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টাকার বিনিময়ে তাদের করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের যেসব কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। কারণ, তারা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
জেকেজি ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া করোনা সনদ দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এই টাকার ভাগ নিয়ে আরিফ ও সাবরিনার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সাবরিনাকে আরিফের দেওয়া সর্বশেষ ৫ লাখ টাকার চেক ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন সাবরিনার সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে আরিফকে লিগ্যাল নোটিশও পাঠান সাবরিনা।
