করোনায় বিপাকে পাবনার স্বর্ণকাররা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২০, ২১:১৩

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ৮ হাজারের বেশি স্বর্ণকার কয়েক মাস বেকার। ধান উঠলে কৃষকের হাতে পয়সা আসলে কৃষক স্বর্ণকারদের কাছে ছুটে। কাজ বেড়ে যায় তখন তাদের। বিয়েশাদির সঙ্গে ঈদ যোগ হলে তো কথাই নেই। স্বর্ণকারদের কথা বলার সময় থাকে না। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। কৃষকের ঘরে ধান উঠেছে, ঈদুল ফিতরের পরে ঈদুল আজহাও চলে এসেছে। বিয়েশাদি তেমন নেই। তাই কাজও হাতে নেই।

পাবনা জেলা জুয়েলার্স শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, পাবনায় পাঁচ শতাধিক স্বর্ণালংকার তৈরির দোকান রয়েছে। এসব দোকানে সাড়ে ৮ হাজারের মতো স্বর্ণকার কাজ করেন। ঈদে ও ধান কাটার মৌসুমে এসব স্বর্ণকার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অলংকার তৈরিতে ব্যস্ত থাকলেও এবার তারা একেবারেই বেকার। আটঘরিয়া উপজেলার দেবত্তর বাজারের স্বর্ণকার ও ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন কিরণ বলেন, তাদের উপজেলায় ত্রিশজনের মতো স্বর্ণকার অছেন। বিভিন্ন ধরনের পেশার মধ্যে সম্ভবত স্বর্ণকারেরাই সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায়। এমন পরিস্থিতিতে তার অতিপরিচিত পাঁচ জন স্বর্ণকার চিরদিনের জন্য এই পেশা ত্যাগ করেছেন। তাদের তিন জন এখন অটোরিকশা চালান। অন্য দুই জন গার্মেন্টসে যোগ দিয়েছেন।

আমিনপুর থানার দুলাই বাজারের স্বর্ণকার ও ব্যবসায়ী পলাশ কুমার মালাকার বললেন, কাজ না থাকায় তার দোকানের চার কর্মচারী মাঠে কাজ করেন। বেড়া উপজেলা সদর বাজারের স্বর্ণকার নাসিরউদ্দিন বলেন, ছয় মাস তাদের আয়-রোজগার বন্ধ। পাবনা জেলা জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, দাম বৃদ্ধির পর থেকেই স্বর্ণালংকার তৈরির কাজ বন্ধ হতে শুরু করে। স্বর্ণকারেরা যখন স্বর্ণের দাম কমার অপেক্ষায় ছিলেন, তার কিছুদিনের মধ্যে করোনার কারণে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এর পরে দোকানপাট খুললেও স্বর্ণের দাম না কমে উলটো আরো বাড়তে থাকে। এখন প্রতি ভরি পাকা স্বর্ণের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে ৬৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ ইত্তেফাককে বললেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তবে স্থানীয় উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা চালু আছে।