প্রতারণা করে ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন সাহেদ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ২৩:১১

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ প্রতারণা করে ১০ কোটিরও বেশি টাকা নিয়েছেন মানুষের কাছ থেকে। এখন পর্যন্ত র্যাবের হটলাইনে ১৪০ জন অভিযোগ করেছেন। র্যাব জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যে প্রতারণা হয়েছে সেটা ১০ কোটি টাকারও বেশি। শুধু দেশেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন সাহেদ। প্রতিদিনই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়ছে।

এদিকে সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার রাতে ঐ অভিযানের পর এই প্রতারকের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে নতুন দুটো মামলা করেছে পুলিশ।

র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে আমাদের হটলাইনে এখন পর্যন্ত ১৪০টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে ১২০ জন টেলিফোনে এবং ২০ জন ইমেইলে অভিযোগ করেছেন। তারা যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেটা থেকেই আমরা ধারণা করছি, এটা ১০ কোটি টাকারও বেশি হবে। আসলে তিনি কত টাকার প্রতারণা করেছেন সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে। শেষ হলেই বোঝা যাবে প্রতারণার টাকার পরিমাণ কত।

আশিক বিল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত যেসব প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার মধ্যে আছে, সরকারি চাকরি ও বদলির কথা বলে টাকা আদায়, বালু ভরাট, রড, সিমেন্ট, বিটুমিন সরবরাহকারীকে টাকা না দেওয়া, ব্যাংক থেকে ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ, রিকশাভ্যানের ভুয়া সনদ, হাসপাতালে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ইত্যাদি। তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের অনেকেই প্রবাসী। রিজেন্টের কর্মীদের মধ্যে অনেকে বেতন না দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন। র্যাবের এই হটলাইন আরো দুই থেকে তিন দিন চালু থাকবে। এখানে যারা অভিযোগ করবেন র্যাব তাদের আইনি সহায়তা দেবে।

এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন কুমার সাহা বলেন, শনিবার রাতে ডিবি সদস্যরা সাহেদকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডের ৬২ নম্বর বাসার সামনে অভিযান চালায়। সেখানে সাহেদের নিজস্ব সাদা প্রাইভেটকার ছিল। সেই প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল গাফ্ফার রাত আড়াইটার দিকে সাহেদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। এই থানায় এ পর্যন্ত সাহেদের বিরুদ্ধে পাঁচটি প্রতারণাসহ সাতটি মামলা হলো। সারা দেশে সাহেদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গতকাল রবিবার ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন। জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ বেশ কিছু তথ্য দিলেও যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব তথ্য এখনো জানাতে চান না গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।