খুলনার মশিয়ালী হত্যাকাণ্ডে তিন আসামি রিমান্ডে আরো একজন গ্রেফতার

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২০, ২৩:১৫

খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের ট্রিপল হত্যা মামলার তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল রবিবার খুলনা মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলাম তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে আসামি মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি শেখ জাফরিন হাসানকে আট দিনের এবং অপর দুই আসামি আরমান ও জাহাঙ্গীরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুত্ফর হায়দার আদালতে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার জানান, আসামি জাফরিনকে আট দিনের এবং আরমান ও জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তিনি আরো জানান, তিন হত্যা মামলার ১৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রহিম আকুঞ্জিকে গতকাল খানজাহান আলী থানার বাইপাস সড়কের বিকেএসপির পেছন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে মশিয়ালী গ্রামের মৃত আক্তার আকুঞ্জির ছেলে।

মশিয়ালী হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর শনিবার নিহত সাইফুল ইসলামের পিতা সাইদুল শেখ বাদী হয়ে খানজাহান আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জাকারিয়া হাসান, তার ভাই বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা শেখ জাফরিন হাসান ও মিল্টন এবং সহযোগী জাহাঙ্গীর ও আরমানসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মুজিবর নামে মশিয়ালী গ্রামের এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক জাকারিয়া হাসান এবং তার ভাই জাফরিন ও মিল্টন পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গ্রামের বেশ কয়েকজন জাকারিয়ার বাড়িতে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে যায়। এ সময় জাকারিয়ার সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জাকারিয়া, জাফরিন ও মিল্টন তাদের ওপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে মশিয়ালী গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম, গোলাম রসুল ও সাইফুল ইসলাম নিহত এবং আফসার শেখ, শামীম, রবি, খলিলুর রহমান ও মশিয়ার রহমানসহ আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। অপরদিকে, বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে সন্ত্রাসী জাকারিয়া বাহিনীর সদস্য ও জাকারিয়ার চাচাতো ভাই জিহাদ শেখকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মোট চার জন নিহত হয়েছেন।