সিলেটে বালি-পাথর কোয়ারি বন্ধ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০০:১৭

ব্যবসায়ীরা বিপাকে

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

সিলেটে বালি-পাথর মহালগুলো বন্ধ থাকায় এর সঙ্গে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিক পাঁচ মাস ধরে বেকার অবস্থায় আছেন। অনেক স্থানে আইনি কারণসহ নানা কারণে বালি-পাথর আহরণ বন্ধ রয়েছে। এর পরিবহনে জড়িত বিশেষ করে কয়েক হাজার বাল্ক হেড, কারগো নৌকা, স্টিল বডি নৌকারও ব্যবসা বন্ধ। নৌকাগুলো ভরা মৌসুমেও ঘাটে বাঁধা।

সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শ্রীপুর, বিছনাকান্দি, কোম্পানীগঞ্জ, ছাতক, সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদী, জামালগঞ্জ, তাহিরপুরের যাদুকাটা, ফাজিলপুর, বিশ্বম্বরপুর, দিরাইসহ বিভিন্ন স্থানে গত বছরের সংগৃহীত বালি-পাথরের সারি সারি স্তূপ পড়ে আছে। এগুলো গত বর্ষায় সংগ্রহ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা, হেমন্তে বিক্রয়ের জন্য। কিন্তু গত মার্চে করোনা সংক্রমণে এই খাতে ধস নামে।

‘ব্যবসায়ীরা এই খাতে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন বিপাকে,’ মন্তব্য করে জামালগঞ্জের ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘সিলেটে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু চাহিদা থাকায় নামমাত্র ব্যবসা চলছে। এবার এই ব্যবসা লোকসানে। মাল বিক্রয় নেই। গতবারের মালের ‘ডাম্প’ এর অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

গোয়াইনঘাটের আলী হোসেন জানান, জাফলং, বিছনাকান্দিতে বছরের এই সময় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা গিজগিজ করত। এখন বিছনাকান্দির সেই পর্যটন স্পট মানুষের জন্য কাঁদে। বালি-পাথর ব্যবসা বন্ধ থাকায় এলাকায় মানবিক বিপর্যয় চলছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গেল বছর থেকে প্রশাসন ইসিএ এলাকার বাহির থেকেও পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিলে বর্তমানে করোনাকালীন সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে গোয়াইনঘাটে কোনো অনুমোদিত কোয়ারি নেই। তাই এখানে বালি-পাথর তোলার আইনি সুযোগ নেই। চেঙ্গের খাল কোয়ারিটির ইজারাও বন্ধ।

এদিকে জাফলং বল্লাঘাট পাথর উত্তোলন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও জাফলং বল্লাঘাট পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ে মানবিক বিবেচনায় অন্তত ‘ইসিই’ বাহির্ভূত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দিলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিরে আসবে।