করোনা পরিস্থিতিতে খরচ বাঁচাতে এবার ভ্রমণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জরুরি বা অতি প্রয়োজনীয় না হলে ভ্রমণ খাতে ব্যয় না করার নির্দেশনা জারি হয়েছে। সেই সঙ্গে সকল প্রকার রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এই পরিপত্রটি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামরি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের অগ্রাধিকার খাতসমূহে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে ২০২০-২১ অর্থবছরে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে ভ্রমণ ব্যয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ক) শুধুমাত্র জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র বিবেচনায় ‘৩২৪৪১০১-ভ্রমণ ব্যয়’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে। খ) সরকারি ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত থাকবে। এবং গ) সকল প্রকার রুটিন ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবত্ থাকবে।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যয় সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নেয় সরকার। ইতিপূর্বে সরকারি খরচে গড়ি কেনা স্থগিত করে পরিপত্র জারি করে অর্থমন্ত্রণালয়। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যানবাহন ক্রয়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই কম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড় স্থগিত রেখেছে অর্থমন্ত্রণালয়। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে গত এপ্রিল মাস থেকে উচ্চ ও মধ্যম অগ্রাধিকার প্রকল্পে অর্থছাড় করলেও নিম্ন অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পে অর্থছাড় বন্ধ ছিল। নতুন অর্থবছরেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ এ পরিপত্রের আওতা বহির্ভূত রয়েছে।
