সাভারে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবির) সক্রিয় ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৪। এসময় বেশ কিছু উগ্রবাদী বই, লিফলেট, সাময়িকী ও ডিজিটাল কনটেন্টসহ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সাভার পৌর এলাকার বাড্ডা ভাটপাড়া মহল্লা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত হলেন, রাজশাহী জেলার ওমর ফারুক রুবেল ওরফে সানী, জামালপুর জেলার হাবিবুর রহমান ওরফে বাদশা, একই জেলার সাইদুর রহমান ওরফে সাইদুর, মাহবুবুর রহমান ওরফে দুদু, শফিকুল ইসলাম শফিক ও গোলাম মোস্তফা।
র্যাব জানায়, কিছু জেএমবি সদস্য সাভারের বাড্ডা ভাটপাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়েছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় জেএমবির সক্রিয় ছয় সদস্যকে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু উগ্রবাদী বই, লিফলেট, সাময়িকী ও ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ডিজিটাল কনভারসেশনসহ বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। র্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসা শিক্ষক ওমর ফারুক একজন শীর্ষস্থানীয় জেএমবি নেতার কাছ থেকে বিভিন্ন এনক্রিপটেড সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার ব্যবহূত মোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া গোলাম মোস্তফা ২০০৪ সালে জেএমবি কর্তৃক জামালপুরে মুসলিম থেকে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত আলোচিত গনি গোমেজ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। হাবিবুর রহমান জামালপুর সদর থানার ঘোড়াধাপ এলাকায় গত ১০ বছর যাবত্ জিএমবিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সাইদুর রহমান জেএমবিকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও অসচ্ছল সদস্যদের আর্থিক সহায়তা করে থাকেন। এছাড়া মাহবুবুর রহমান সদস্যদের মধ্যে জঙ্গি সংক্রান্ত বিভিন্ন বই নিয়মিত গোপনে বিতরণ করে থাকেন।
র্যাব-৪-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তারা কোনো নাশকতা করতে এসেছিল কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
