প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে সিরাজগঞ্জের যমুনা চরের মানুষ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩২

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি                                                               

সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা চরের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের জীবন কাটে নিদারুণ কষ্টে। জেলার কাজিপুর চৌহালী বেলকুচি শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়া্ই করে বেঁচে আছে। প্রতি বছর যমুনার প্রবল ভাঙন, ভূমিক্ষয়, বন্যা, ঝড়, ক্ষুধা, বঞ্চনা আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত এসব মানুষের জীবন কাটে অর্ধাহারে অনাহারে। যমুনার করাল গ্রাস থেকে বাঁচার জন্য তারা ছুটে যায় এক চর থেকে অন্য চরে। প্রতি বছর বছর বাড়ি পরিবর্তন এদের নিত্যসঙ্গী।

সিরাজগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, তেকানী, খাসরাজবাড়ি, মনসুরনগর, নাটুয়াপাড়া, চৌহালী উপজেলার ঘোড়জান, স্থল, সাদিয়াচাঁদপুর, খাসকা্্উলিয়া, ওমারপুর, শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জালালপুর, রুপবাটি, সোনাতনী, পোরজনা, বেলকুচি উপজেলার বরধুল এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া, কাওখোলা ও কালিয়াহরিপুর ই্উনিয়নের দেড় শতাধিক চরাঞ্চলের অধিবাসী নদী ভাঙন, বন্যা, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বেঁচে আছে। সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ই্উনিয়নের খায়ের হোসেন জানান, তার ৫০ বছরের জীবনে চারবার নদী ভাঙন দিয়েছে। আজ সব হারিয়ে তাদের পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

তিনি দুঃখ করে বলেন, বাপ-দাদার প্রায় ৪০ বিঘা জমি ছিল। বাড়িতে ৪/৫জন বছরশাল কামলা থাকত কিন্তু যমুনা তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আজ তারা নিঃস্ব।

অধিকাংশ চরেই তেমন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার হার অনেক কম। কোনো কোনো চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থাকলেও উচ্চ শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে ছেলে-মেয়েদের ্্উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। চিকিত্সা ক্ষেত্রেও চরবাসী অবহেলিত। প্রতিটি চরে চিকিত্সা কেন্দ্র না থাকায় তারা আধুনিক চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া চরাঞ্চলে বাল্যবিবাহের সংখ্যাও বেশি। এখানে ১২/১৪ বছরের ছেলে-মেয়েদের বিবাহের প্রবণতা বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। চরবাসীরা জানায়, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীরা  মাঝে মাঝে এলেও তা চাহিদার তুলনায় কম।            

তবে এতকিছুর পরও প্রতি বছর বন্যায় জমিতে পলি পড়ায় জমিগুলো উর্বর শক্তি বেড়ে যাওয়ায় এখানে কম পরিশ্রম ও কম খরচে প্রচুর পরিমাণে বাদাম, তিল, তিসি, কাউন, পাট, সরিষা, ধানসহ নানা ধরনের শাক-সবজি জন্মে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে চরবাসী তাদের উত্পাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।