সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রংপুর নগরীর রাস্তাঘাট

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ২১:৫৩

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুর মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র খাল শ্যামাসুন্দরীও এখন পানিতে টইটম্বুর। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরীর অধিকাংশ এলাকা। গতকাল রবিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে নগরীর বেশির ভাগ পাড়া-মহল্লায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নিচু এলাকাগুলো এখন হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জানা গেছে, নগরীর কামারপাড়া, মুলাটোল, বাবুখাঁ, হাবিবনগর, ধাপ হাজীপাড়া, আমাশু, কুকরুল, জুম্মাপাড়া, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লাতে পানি জমে আছে। কোথাও পানিবন্দি হয়ে আছে অনেক পরিবার। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল।

মহানগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা। কোনো কোনো এলাকায় ড্রেনেজব্যবস্থা থাকার পরও পানি বের হতে পারছে না। আবার কোথাও দেখা গেছে ড্রেনের মুখে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। তবে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

নগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল পানিতে ভরপুর। প্রতিটি ড্রেনের সংযোগ খালের মুখে পানিতে থইথই করছে। কিছু কিছু জায়গাতে পলিথিন, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর কচুরিপানার কারণে শ্যামাসুন্দরীতে পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। কিছু এলাকায় নিজ উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কার করাসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।

নগরীর ধাপ হাজীপাড়া এলাকার মামুন নামে এক যুবক জানান, রংপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার আট বছরেও ঐ এলাকাতে ড্রেন তৈরি করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানি জমে থাকে। যদিও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে নগরীর মুলাটোল কোতোয়ালি থানা মোড়ে। ড্রেনেজব্যবস্থা থাকার পরও হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, অনেক এলাকাতে ড্রেনের পানি শ্যামাসুন্দরী খালে যাচ্ছে না। কারণ শ্যামাসুন্দরী খাল এখন পানিতে ভরা। তবে পানি কমে এলে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। তিনি আরো বলেন, এখন নগরীর বেশির ভাগ এলাকাতে রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণকাজ হচ্ছে। এ কারণে অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ একটু বেড়েছে। কাজ শেষ হলে এমন দুর্ভোগ থাকবে না।