খুলনায় ট্রিপল মার্ডার

পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে সন্ত্রাসী জাফরিনের সেলফি ভাইরাল

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের হোতা তিন ভাই শেখ জাকারিয়া হাসান, শেখ জাফরিন হাসান ও  শেখ মিল্টনের অপরাধ জগতের নানা অজানা তথ্য প্রকাশ হতে শুরু করেছে। তবে, সবকিছু ছাপিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি শেখ জাফরিন হাসানের বেশ কিছু সেলফি এখন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ছবিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেছে। এর মধ্যে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলামসহ বর্তমান ও সাবেক তিনজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ কবির হাসান, শেখ জাকারিয়া, শেখ জাফরিন হাসান ও শেখ              মিল্টন চার ভাই। এরা খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের মৃত হাসান আলী শেখের ছেলে। তবে, এদের মধ্যে কবির কিছুটা নিরীহ। বাকি তিন ভাই বেপরোয়া। অবৈধ অর্থবিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে তারা কাউকে পরোয়া করে না। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের আনুগত্যের বাইরে গেলেই নেমে আসে অত্যাচারের খড়গ। আর পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে হয়রানি তো ছিলই। মাদক, অস্ত্র ও সুদের ব্যবসাসহ নানা অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল তারা মশিয়ালী গ্রামকে।

স্থানীয়রা জানান, খানজাহান আলী থানায় নতুন ওসি যোগদান করার সঙ্গে সঙ্গেই তিন ভাই ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হতেন। এমনকি থানায় পুলিশের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসলেও তারা একইভাবে ফুল দিয়ে বরণ করতেন। আর এ ফুলেল শুভেচ্ছার ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচারসহ নিজেদের কাছে রেখে সাধারণ মানুষের কাছে প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করতেন। এভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছবিও তারা সংরক্ষণ করতেন অসত্ উদ্দেশ্যে। যদিও ইতিপূর্বে মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ থেকে শেখ জাফরিনকে এবং গুলি চালিয়ে তিনজন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যার দায়ে সম্প্রতি তার ভাই শেখ জাকারিয়া হাসানকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে স্থানীয় লোকজন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ঐ সময় কে অপরাধী আর কে ভালো এটা বোঝা মুশকিল হয়ে যায়। তবে, ছবি থাকলেই তাদের ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। ইতিমধ্যে জাফরিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ট্রিপল হত্যা মামলায় আট দিনের রিমান্ডে রয়েছে সে।

সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোল্লা জাহাঙ্গীর, মো. কামরুজ্জামান, খানজাহান আলী থানার বর্তমান বিতর্কিত ওসি এস এম শফিকুল ইসলাম এবং ইতিপূর্বে কেএমপিতে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের ছবি দেখা গেছে। কামরুল ইসলাম সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করে। এখন যে বা যারাই ছবি তুলেছেন—এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে, আগে থেকে জানা না থাকলে কেউ এসে ছবি তুললে সেটি দোষের কিছু না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৪ দিনের রিমান্ডে রহিম

ট্রিপল হত্যা মামলায় গ্রেফতার রহিম আকুঞ্জিকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুত্ফর হায়দার খুলনা মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলামের আদালতে আসামি রহিম আকুঞ্জিকে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার জানান, জাকারিয়াসহ ট্রিপল হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।