ঢাকাসহ বড় শহরগুলো ফিরছে আগের চেহারায়

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ০৩:৩৩

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার না কমলেও ঘরের বাইরে মানুষের চলাফেরা বেড়ে গেছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ফিরে এসেছে যানজট। অফিস-আদালতের পাশাপাশি গণপরিবহন, বাজার-ঘাট, শপিংমল, রেস্তোরাঁ—সব স্থানে জনসমাগম বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার দৃশ্য হয়ে পড়েছে প্রায় স্বাভাবিক। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নয় বরং আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত দুই সপ্তাহে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে যানবাহন এবং মানুষের চলাচল অনুসরণ করে দেখা যায়, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ছাড়া সব শ্রেণির মানুষ সড়কে চলাচল করছেন। শিশুদের রাস্তায় কম দেখা গেলেও তরুণ এবং মধ্যবয়সিদের চলাফেরা প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। ব্যক্তি ও শ্রেণিভেদে তারা রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা গণপরিবহন ব্যবহার করছেন। লঞ্চ ও বাস স্টেশনে ভিড় বাড়ছে। সমাগম বেড়ে চলছে বাজারগুলোতেও।

সর্বশেষ প্রকাশিত গুগলের মবিলিটি রিপোর্টেও দেশে মানুষ ও যানবাহন চলাচল বৃদ্ধির হার বাড়তে দেখা গেছে। এমনকি দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে বেশ কিছু স্থানে গত জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে যেমন ভিড় ছিল তার কাছাকাছি পরিমাণ ভিড় হচ্ছে এখন। গড়পড়তায় নাগরিক জীবনে ঘরের বাইরে কোলাহল, সমাগম ও ভিড় আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। গতকাল শনিবার ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ও মহাসড়কে দিনের বিভিন্ন সময়ে যানজট দেখা যায়।

গুগলের প্রকাশিত রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের তুলনায় ২৯ মার্চ বাংলাদেশের বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালের মতো স্থানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ৬৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এরপর ১৭ এপ্রিল বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি কমে দাঁড়িয়েছিল ৭২ শতাংশ। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ১২ জুলাইয়ে স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি কমেছে ৩৩ শতাংশ। অর্থাত্ মার্চ ও এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে স্টেশনে বা ঘরের বাইরে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।

শুধু স্টেশন বা সড়ক নয়, বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, শপিং সেন্টার, থিম পার্ক, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ও সিনেমা হল, খুচরা ব্যবসা ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মার্চের শেষ সপ্তাহে ৬৮ শতাংশ জনসমাগম কমেছিল। এপ্রিলে এটি আরো কমে হয় ৭৫ শতাংশ। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই রিটেইল ও বিনোদনকেন্দ্রে ৩৪ শতাংশ জনসমাগম কম ছিল। ১২ জুলাই কর্মক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি ১৭ শতাংশ কম ছিল। অর্থাত্ অফিস এবং কর্মস্থলে যাওয়া মানুষের চলাচল, রাস্তায় ভিড়-যানজট তৈরি করছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে এ চলাচল আগের মতই কিংবা তার চেয়েও বেশি ভিড় তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইত্তেফাক/ইউবি