মোবাইল ব্যাংকিং

নভেম্বরে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ও গড় লেনদেন বেড়েছে

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সুবিধার পাশাপাশি কেনাকাটায় নানারকম অফার থাকায় মানুষ এ সেবার প্রতি ঝুঁকছে। ফলে প্রতি মাসেই এ সেবায় হাজার হজার গ্রাহক অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৮ সালের নভেম্বর শেষে  দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭০ লাখ। অন্যদিকে, নভেম্বর মাসে এ সেবায় দৈনিক লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নভেম্বর পর্যন্ত মোট নিবন্ধিত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় হিসাব রয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৭৩ হাজার। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৭ জন। এদিকে নভেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন সামান্য বাড়লেও মোট লেনদেন কমে গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নভেম্বর মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ হাজার ৫২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাত্ অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে লেনদেন কমেছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ মাসে গড় লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৫০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অক্টোবরে ছিল এক হাজার ৪৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর দৈনিক লেনদেন বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। তবে নভেম্বর মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসেবে টাকা জমা ও উত্তোলন উভয়ই কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নভেম্বর মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে ক্যাশইন হয়েছে ১২ হাজার ৫৭৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। অক্টোবরে যার পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ২৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ মাসে মোট উত্তোলন করা বা ক্যাশ আউট হয়েছে ১১ হাজার ৯৪৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসজুড়ে উত্তোলন করা হয়েছিল ১২ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৫ হাজার ১১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের মাস অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১০৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

এ সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ হয়েছে ৫৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। যা অক্টোবরে ছিল ৫৮৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ মাসে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩০১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের মাসে ছিল ৩৫০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। নভেম্বরে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। যা অক্টোবরে ছিল ৩২৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া নভেম্বর সরকারি পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা অক্টোবরে ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে নভেম্বর মাসজুড়ে অন্যান্য বাবদ লেনদেন হয়েছে ৪৮৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা অক্টোবরে ছিল ৫৩৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

জানা গেছে, ২০১১ সালের মার্চে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথমবারের মতো দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে। এ পর্যন্ত ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংককে এই সেবা চালুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ২০টি ব্যাংক সেবাটি চালু করতে পারলেও পরবর্তী সময় দুটি ব্যাংক সেবাটি বন্ধ করে দেওয়ায় এখন ১৮টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে প্রথম এ সেবার নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা এক কোটি ছাড়ায়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, বর্তমানে একজন মোবাইল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) গ্রাহক তার ব্যক্তিগত হিসাবে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার স্থিতি রাখতে পারবেন। এর আগে তিন লাখ টাকার বেশি স্থিতি রাখা যেত। ২০১৭ সালে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অপব্যবহার রোধে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, একজন ব্যক্তি যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটিমাত্র হিসাব রাখতে পারবেন। যাদের একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চলমান রয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো মোবাইল হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা বা তার তদূর্ধ্ব নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে গ্রাহককে পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে, যা এজেন্ট তার রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করবেন। এমনকি রেজিস্ট্রারে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্ট এই ধরনের কার্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন না করলে বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এজেন্টশিপ বাতিল করারও নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া ওই নির্দেশনায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দৈনিক ও মাসিক লেনদেনের সীমা আরো কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

ওই নির্দেশনা অনুসারে, একজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আগে এ হার ছিল ২৫ হাজার টাকা। এখন থেকে গ্রাহক দৈনিক দুবার এবং মাসে ১০ বার এ সেবা নিতে পারবেন, যা আগে ছিল দৈনিক তিনবার এবং মাসে ১০ বার। একইসঙ্গে দৈনিক জমার সীমাও পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ দুবারে ১৫ হাজার টাকা করে পাঠানো যাবে, যা মাসে সর্বমোট ২০ বারে এক লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। আগে দিনে পাঁচবারে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ২০ বারে দেড় লাখ টাকা করে জমা করা যেত।