স্পিকার বলছেন ‘সাংবিধানিক সংকট’
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের স্পিকার সিপি জোশির সঙ্গে সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের লড়াই এবার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে। রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে চলেছে বলে শীর্ষ আদালতের আবেদনে জানাতে চলেছেন সিপি জোশি।
বিদ্রোহী শচীন এবং তার অনুগামীদের বিধায়ক পদ কেন খারিজ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছিলেন স্পিকার। হাইকোর্টে সেই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন শচীনরা। শুক্রবার সেই মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছে আদালত। তবে ততদিন পর্যন্ত শচীন ও বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিপি জোশি। বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে সিপি জোশি বলেন, ‘আমি শুধু কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছি। এটা কি আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে না? বিধায়কদের নোটিশ ধরানোর পূর্ণ অধিকার রয়েছেন স্পিকারের। স্পিকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই তা নিয়ে আদালতে যাওয়া যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘিত হয়েছে।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভির। গোটা ঘটনায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ এবং একটার পর একটা তারিখ ঘোষণা করে বিষয়টি অযথা বিলম্বিত করার বিরুদ্ধেই তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন বলে জানান সিপি জোশি। তার কথায়, ‘বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনের মধ্যে কোনো সংঘাতমূলক পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা চাই না আমি। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করতেই হবে। তাই সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট পরিস্থিতি সামলে নিক, এমনটাই চাই আমি। নোটিশ দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে আমার। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারব না কেন?’ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে সিপি জোশির হয়ে সওয়াল করতে পারেন বলে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে। সেখানে সংবিধানের ২১২ ধারা তুলে ধরতে পারেন তিনি। ঐ ধারায় বলা হয়েছে, বিধান সভার কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলে, তারপর আদালতে সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়। যেহেতু স্পিকার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরিয়েছিলেন, এ ব্যাপারে হাইকোর্ট কোনো আদেশ দিতে পারে না বলে আদালতে জানানো হবে।র্
