পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ১০টি কমিউনিটি সেন্টার ও ছয়টি ঘাটলা নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাদ্দকৃত ১ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লোপাটের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার সরকারি হিসাবে ঐ অর্থ জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কলাপাড়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মোতালেব খন্দকার টাকা ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কাজ না করেই ইউএনওর স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল বানিয়ে ঐ টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছিল।
টাকা নেওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সারিকা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শামীম জানান, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে কোটেশনের ভিত্তিতে ঐ কাজ দেওয়া হয়। এরপর তার আর কিছুই করতে হয়নি। একদিন পুনরায় ফোন দিয়ে মেসার্স সারিকা ট্রেডাসের্র নামে বিল পরিশোধ করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব জাল কাগজের মাধ্যমে এ কাজ করা হয়েছে তাতে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তপন কুমার ঘোষের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা গেছে। টাকা আত্মসাতের জন্য কলাপাড়া ইউএনওর সরকারি ব্যাংক হিসাব নম্বর কেটে গলাচিপা উপজেলার ব্যাংক হিসাব নম্বর বসানো হয়েছে, তাতে সত্যায়ন করেছেন পিআইও তপন। তবে এ বিষয়ে জানতে গত দুই দিন তার মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকারের নির্দেশে তদন্ত করছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, কলাপাড়ার সাবেক ইউএনও মো. মুনিবুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে ঐ টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছিল। এনিয়ে গতকাল বুধবার ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
জালিয়াতদের শাস্তি দাবি
টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন ঐ আবাসনে বসবাসরত ভুক্তভোগী কয়েক শ মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে কলপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চাকামইয়া আবাসনের সভাপতি হানিফ মোল্লা, নীলগঞ্জ আবাসন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছত্তার হাওলাদার ও নিশানবাড়িয়া আবাসনের সভাপতি তাছলিমা বেগম। বক্তারা বলেন, সঠিক তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আশ্রয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কারণ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
