দোহারে দুই কেজি সোনার লোভে ব্যবসায়ী তপন হত্যা জড়িত সাত জন, গ্রেফতার ৫

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০০:৫০

দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের জানান, মূলত দুই কেজি স্বর্ণের লোভে তপন হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তপনের পরিবারের এক সদস্যের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের জানান পুলিশ সুপার। ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করলেও দুর্বৃত্তরা তা  না করতে পেরে তপনকে হত্যা করে । মারুফ হোসেন সরদার জানান, মামলাটি আলোচিত হওয়ায় আমরা আমাদের দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই মামলার তদন্ত কাজ শুরু করি। যে কারণে ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই ৫ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাতজন জড়িত ।

পুলিশ সুপার জানান, তপন কর্মকারের বাড়িতে দুই কেজি স্বর্ণ আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঐ পরিবারের এক সদস্য তার এক নিকট আত্মীয়ের সহায়তায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। এতে যারা অংশগ্রহণ করবে তারা প্রত্যেকে তিন লাখ টাকা করে পাবে বলে তাদের মধ্যে রফা হয়। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে তপনের পরিবারের যে সদস্যের নাম উঠে এসেছে তিনি তপনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকার। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এছাড়া গ্রেফতারকৃত পাঁচ জন হলেন—নিহত তপনের বৌদি মনি কর্মকারের ভগ্নিপতি  ভোলানাথ ওরফে হূদয় , প্রেমানন্দ হালদার , সাধু বিশ্বাস ,  সবুজ চন্দ্র বিশ্বাস  ও আলী মিয়া । ভোলানাথ ও প্রেমানন্দের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা গ্রামে। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগিনা। এছাড়া সাধু বিশ্বাসের বাড়ি দোহার উপজেলা অরঙ্গাবাদ গ্রামে, সবুজ বিশ্বাসের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কান্দাবাড়িল্যা গ্রামে এবং আলী মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। গত ১৪ জুলাই রাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকারকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।