লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিয়ের প্রলোভনে কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে শিপন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১৮ জুলাই শিপনকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা। এ ঘটনার পর থেকে শিপন সটকে পড়েছেন। তবে মামলাটি এখনও নথিভুক্ত হয়নি। এ দিকে এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মীমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন স্থানীয় মাতব্বররা।
অভিযুক্ত শিপন উপজেলার সিংগীমারী গ্রামের শস্য গুদাম এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র। শিপন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, গত ৩ বছর ধরে প্রতিবেশীর কলেজ পড়ুয়া ওই মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিপনের। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিপন ওই ছাত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এমন অবস্থায় গত শুক্রবার (১৭জুলাই) রাতে শিপন আবার ওই ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। শিপনের পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ছাত্রীকে মারধর করে বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা অজ্ঞান অবস্থায় ধান ক্ষেত থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর থেকে অভিযোগ তুলে নিয়ে মীমাংসা করতে চাপ সৃষ্টি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা।
আরও পড়ুন: গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘শিপন আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। তার পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার ছেলে শিপনকে শাসন না করে বরং আমার মেয়েকে মারধর করে ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ করেছি মামলাটি এখনও নথিভুক্ত হয়নি। তবে অভিযোগ তুলে নিয়ে মীমাংসা করতে চাপ সৃষ্টি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। তারা ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আপোস মীমাংসা করতে চাপ দিচ্ছেন’।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে শিপনের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলভেনে সে আমার সাথে একাধিকবার শরীরিক সম্পর্ক করেছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।’
এ বিষয়ে শিপনের বাবা খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফাঁসাতে এই নাটক তৈরি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইত্তেফাক/এএএম
