খেঁকশিয়ালের বিয়ে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৯:৫৫

নদীর ধারে উলুবন। দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে অনেক বড়ো একটা বন। উলুবনে শুধু যে উলুখড় আছে তেমনটা নয়, এই বনে আছে নানা জাতের গাছগাছালি। কদম, কাঁঠাল, শিমুল, আতা, পেয়ারাসহ নানা ধরনের গাছ রয়েছে এ বনে।

এই বনে বাস করে বিভিন্ন জাতের পশুপাখি। বনের ভেতর একদল শিয়াল বাস করে। শীতকালে যখন হুক্কা হুয়া হু, হুক্কা হুয়া হু করে ডাকে তখন গ্রামের মানুষ বলাবলি শুরু করে—‘ওরে বাবা রে, কত্ত শিয়াল আছে এই বনে। বনে ঢুকলে শিয়ালেরা ছিঁড়ে খাবে গো।’ বিশেষ করে শিয়ালের ভয়ে গ্রামের মানুষ বনে ঢোকার সাহস পায় না। এজন্য বনের ভেতর মানুষের অত্যাচারও নেই। পশুপাখিরা সবাই নির্ভয়ে মিলেমিশে আনন্দে বসবাস করে।

ক’দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। এই রোদ, এই বৃষ্টি। যেন রোদ-বৃষ্টির খেলা চলছে। এমন রোদ-বৃষ্টির খেলার মধ্যেই খেঁকশিয়ালের বিয়ের আয়োজন চলছে বনে। এই সময়টা শিয়ালদের বিয়ের উপযুক্ত সময়। একপ্রকার রীতিও বলা যায়। অনেক অনেক দিন আগে থেকেই এই নিয়ম মেনে  আসছে শিয়ালগোষ্ঠী। যখন রোদ-বৃষ্টির খেলা হবে ঠিক তখন শিয়ালের বিয়ের আয়োজন হবে। সারা বছর এমন দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকে শিয়ালেরা। শুধু শিয়ালেরাই নয়, অপেক্ষায় থাকে বনের সব পশুপাখি। বিয়ে যেন একটা বড়ো উত্সব। কত্ত ভালো ভালো খাবার খাওয়া, নাচা-গাওয়া। কত্ত মজা! আহা কী আনন্দ!

আজ খেঁকশিয়ালের বিয়ে। বনের পশুপাখিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। বনের সকল পশুপাখি এখন ভীষণ ব্যস্ত। খেঁকশিয়ালের বিয়েতে কে কী উপহার দেবে তা নিয়ে চলছে হিসেব-নিকেশ। বনে অন্য পশুপাখির কার কখন বিয়ে হয় কেউ জানতেই পারে না। কিন্তু খেঁকশিয়ালের বিয়ে হলে সবাই জানতে পারে। প্রতি বছর এই সময় তাই শিয়ালের বিয়ের নির্ধারিত সময়।

খরগোশ আর ইঁদুর দুজন মিলে কদম ফুল উপহার নিয়ে এসেছে। ইঁদুর গাছে উঠে কুটকুট করে কদম ফুল কেটে নিচে ফেলছে। খরগোশ সেগুলো একত্র করছে। কদম ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে শিয়ালের আস্তানা। বৃষ্টিভেজা কদম ফুলে সাজানো সারা বাড়ি। এরমধ্যে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা। কী মজা! আহা কী আনন্দ!

কাঠবিড়ালি নিয়ে এসেছে অনেকগুলো পেয়ারা। যে পেয়ারা গাছটিতে কাঠবিড়ালি বসবাস করে সেই গাছের মিষ্টি পেয়ারা এগুলো। খেঁকশিয়ালের বিয়েতে যারা দাওয়াত খেতে আসবে তাদের সবাইকে পেয়ারা খেতে দেবে কাঠবিড়ালি।

শিয়ালেরা বন্ধুর বিয়েতে উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছে পাকা কাঁঠাল। সবাই মিলে আয়েশ করে কাঁঠাল খাওয়া হবে।

বনের সব পশুপাখি যে যার মতো খাবার নিয়ে হাজির খেঁকশিয়ালের আস্তানায়। এ এক হুলুস্থুল কাণ্ড। আজ বনের ভেতর চলছে বিরাট আয়োজন। পশুপাখিরা এসে গেছে। খেঁকশিয়াল বলল, ‘বন্ধুরা, তোমাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আমার বিয়ে। যে যার মতো আনন্দ করো। গান করো, নাচো। খাওয়া-দাওয়া করো। আহা কী আনন্দ!’

খেঁকশিয়ালের কথা শুনে ঘুঘু, টিয়া, ময়না, কোকিল, বক, শালিক, টুনটুনিসহ আরো অনেক পাখি যে যার মতো নেচে-গেয়ে মুখরিত করে তুলল পুরো বন। হঠাত্ রোদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। রোদ আর বৃষ্টিতে সে এক দারুণ পরিবেশ। খেঁকশিয়ালের বিয়ে সম্পন্ন হলো। রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই খেঁকশিয়াল নাচতে শুরু করল। খেঁকশিয়াল ডিকবাজি দেয়, নাচতে থাকে, গান করে। দাওয়াত খেতে আসা পশুপাখিরা সবাই মিলে নেচে নেচে গান গাইতে লাগল—‘রোদ হচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে। রোদ হচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে।’

আহা কী আনন্দ!

যখন দেখবে রোদ আর বৃষ্টি একসঙ্গে পাল্লা দিয়েছে তখন বুঝে নেবে কোথাও না কোথাও নিশ্চয় খেঁকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে। তখন তুমিও বলবে, ‘রোদ হচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে।’

আহা কী আনন্দ লাগছে!

 

অলঙ্করণ

সায়মা আহাদ খান তাহিয়া

সপ্তম শ্রেণি, তেজগাঁও সরকারি  বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা