ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দরকার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ০০:৪৪

হাইকোর্টের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেছেন, বিচার বিভাগের অগ্রযাত্রায় বার ও বেঞ্চ একে অপরের পরিপূরক। বার ছাড়া যেমন বেঞ্চের অস্তিত্ব থাকে না, তেমনি বেঞ্চ ছাড়া বারের অস্তিত্ব নেই। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন, আমি আমার চাকরি জীবনে সম্পূর্ণ সত্ থেকে ন্যায় নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি আপনারা তার বিচার করবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেওয়া বিদায় সংবর্ধনার জবাবে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ এসব কথা বলেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন, আপনাদের সঙ্গে যারা জুনিয়র আইনজীবী আছেন, তারা যেন বর্তমান কঠিন সামাজিক বাস্তবতায় পরিবারপরিজন নিয়ে সুষ্ঠুভাবে এবং সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। কেননা আমিও এক দিন জুনিয়র আইনজীবী ছিলাম। সেহেতু জুনিয়রদের দুঃখ আমি বুঝি। তিনি বলেন, চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী আজ চাকরি থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আমি চাকরি থেকে বিদায় নিচ্ছি এতে আমার কোনো কষ্ট নেই, মানসিক কোনো দুঃখ নেই বরং আমি ভারমুক্ত। তবে আমার কষ্ট হচ্ছে যাদের সঙ্গে আমি এতদিন ছিলাম, তাদের ফেলে যেতে। তিনি বলেন, অনেকগুলো এতিমখানার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা আছে। সেখানে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে আছে। আমার ইচ্ছা শেষজীবনে এতিম বাচ্চাদের মধ্যে থেকেই তাদের ভালোবাসায় আমি বিদায় নিতে চাই।

এর আগে বিদায় সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, বিচারপতি হিসেবে আপনি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স মামলার বিচারের ক্ষেত্রে আপনি অনন্য হয়ে থাকবেন। একজন বিচারক হয়ে সংস্কৃতির প্রতি আপনার যে টান দেখেছি তা অতুলনীয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন বলেন, একজন প্রজ্ঞাবান বিচারকের পাশাপাশি আপনি মানবিক মনের একজন মানুষ। আমরা জানি আপনি নিজ উদ্যোগে এতিমখানা তৈরি করে অনাথ শিশুদের আশ্রয় দিয়েছেন। আপনার মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অনুষ্ঠানে আইনজীবীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

১৯৫৩ সালের ৮ আগস্ট বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজিতে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল তিনি মুন্সেফ হিসেবে (সহকারী জজ) যোগ দেন। ২০০০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন। আগামী ৭ আগস্ট তিনি অবসরে যাবেন।