রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের একটি বাড়িতে গ্যাসলাইনের বিস্ফোরণে দেওয়ালধস ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে এক বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং গ্যাসের আগুনে শিশুটির মা, বাবা ও বোন দগ্ধ হন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বংশালের সামসাবাদ লেনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম ময়নুল। দগ্ধ তিন জন হলেন—শিশুটির বাবা মো. জাবেদ (৩৫), মা শিউলি আক্তার (২৫) ও বোন জান্নাত (৪)। দগ্ধরা বর্তমানে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, শিশু জান্নাতের শরীরের ৬০ শতাংশ, তার বাবার ৩৭ শতাংশ ও মায়ের ১৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু জান্নাত ও তার বাবা জাবেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ব্যাগ ব্যবসায়ী জাবেদ তার পরিবার নিয়ে বংশালের কসাইটুলীর ৪৪/১ নম্বর সামসাবাদ লেনের বাড়ির নিচতলায় থাকেন। গতকাল সকাল সোয়া ৮টার দিকে গ্যাসলাইনে হঠাত্ বিস্ফোরণ ঘটে এবং বাড়িটির নিচতলার দুটি কক্ষের দেওয়াল ধসে পড়ে। একই সঙ্গে ঐ দুই কক্ষে আগুন লেগে যায়। এরপর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান এবং ধসে পড়া দেওয়ালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা লিমা খানম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বংশালের সামসাবাদ জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের পাশে একটি দোতলা বাড়ির নিচতলায় বিস্ফোরণ ঘটে। ঐ বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভবনের নিচতলার দেওয়াল ধসে পড়ে। তাতে চাপা পড়ে মারা যায় ময়নুল। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
দগ্ধ জাবেদের ফুপু শিউলি বেগম বলেছেন, ‘আমরা শুনেছি, তারা নাকি ঘুমিয়ে ছিল। কীভাবে আগুন লেগেছে তা জানতে পারিনি।’ এ ব্যাপারে বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির জানান, ঐ বাসার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা ছিল। গত বুধবারও গ্যাসের লাইন মেরামত করা হয়। আগেও একবার ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সকালে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঐ ভবনের নিচতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একই লাইনে থাকা আশপাশের বাসার গ্যাসের পাইপ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাশের তিনটি কাগজের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
