এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ২০:২৫

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

বায়োমেট্রিক্স এবং বায়োইনফরমেটিক্স

 

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় তোমাদের জন্য আজ থাকছে প্রথম অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বায়োমেট্রিক্স এবং বায়োইনফরমেটিক্স। শব্দ দুটি শুনতে প্রায় একই রকম মনে হলেও বিষয় কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা উত্তর লেখার সময় এই দুটি বিষয়ে এলোমেলো করে ফেলে। তাই এই দুটি বিষয়ের পার্থক্য বোঝানোর জন্য বিষয় দুটি একসাথে নিয়ে এসেছি।

বায়োমেট্রিক্স (Biometrics): গ্রীক শব্দ “bio” (life) ও “metric” (to measure) থেকে উত্পত্তি হয়েছে Biometrics । বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানো কোনো ব্যক্তির দেহের গঠন/শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে চিহ্নিত বা পৃথক করা যায়।  অর্থাত্ বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মেপে এবং বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৃথক বা চিহ্নিত করার প্রযুক্তি।

অপরদিকে, বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics) হলো: জীববিজ্ঞানের সমস্যাগুলো কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর সমাধান করা।

Ask.com অনুসারে বায়োইনফরমেটিক্স হলো: বিজ্ঞানের সে শাখা, যা বায়োলজিক্যাল ডেটা এনালাইসিস করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি, ইনফরমেশন থিয়োরি এবং গাণিতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে। বায়োইনফরমেটিক্সে অন্তর্ভুক্ত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, এমিনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড ইত্যাদি  এবং এতে অন্তর্ভুক্ত বিজ্ঞানসমূহ হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার ও অন্যান্য বিষয়।

এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রযুক্তি। উচ্চতর গবেষণা ব্যতীত এর ব্যবহার নেই। অপরদিকে বায়োমেট্রিক্স এর ব্যবহার এখন খুব বেশি। তাই বায়োমেট্রিক্স সম্পর্কে তোমাদের আরো বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

এখন আমরা জানবো বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে? বায়োমেট্রিক্সের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এখন খুবই জনপ্রিয় একটি সিস্টেম। আমরা যদি এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে একটু চিন্তা করি তাহলেই বুঝতে পারব বায়োমেট্রিক্স কীভাবে কাজ করে? ধরে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন নিয়ে আসা হলো। সেখানে প্রথমেই প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে তাদের নাম এবং রোল নম্বর ইনপুট দেয়ার পাশাপাশি তাদের আঙ্গুলের ছাপও ইনপুট হিসেবে দিতে হবে। এটাকে বলা হয় ক্যাপচার (Capture) যা আঙ্গুলের ছাপকে স্যাম্পল হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর গ্রহণকৃত স্যাম্পলটিকে বিশ্লেষণ করে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করবে। এটাকে বলা হয় এক্সট্রাকশন(Extraction)। তারপর যখন ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন এসে এখানে আঙ্গুলের ছাপ দেবে তখন পূর্বে ডেটাবেজে সংরক্ষিত স্যাম্পলটির সাথে মেশিন মিলিয়ে দেখবে। এ কাজটিকে বলা হয় কমপারিজন (Comparison)। তারপর ম্যাচিং (Matching) করে দেখা হবে দুটি স্যাম্পল একই রকম কীনা?

তাহলে আমরা দেখতে পেলাম বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি কাজ করে মূলত চারটি ধাপে।

১. ক্যপচার (Capture)

২.এক্সট্রাকশন (Extraction)

৩.কমপারিজন (Comparison)

৪. ম্যাচিং (Matching)

এ কাজগুলো করতে যে যে উপাদানগুলো প্রয়োজন তা হলো- সেন্সর (Sensor), কম্পিউটার (Computer) এবং সফটওয়্যার (Software)।