করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার সরকারি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী সিটি হাটে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এমনকি সামাজিক দূরত্বেরও কোনো বালাই নেই। ফলে রাজশাহী অঞ্চলের সর্ববৃহত্ এই পশুর হাটে আগত হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতারা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, উচ্চহারে টোল আদায় করা হলেও সিটি হাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। গোটা হাটের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। বৃষ্টিতে হাটের ওপর জমে আছে হাঁটু পর্যন্ত কাদা পানি। এরমধ্যেই চলছে বেচাকেনা। হাটের পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এই বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার নির্দেশনা থাকলেও হাট ইজারাদার উদাসীন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ক্রেতা কম হওয়ায় এবার সিটি হাটে গরু-মহিষের দাম বেশ কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাঁটু পর্যন্ত কাদা পানিতে সয়লাব সিটি হাট। কোথাও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত দেবে যাচ্ছে গরু-মহিষের পা। বাদ যাচ্ছে না ক্রেতা-বিক্রেতারাও । কাদার কারণে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে অনেকেই পিছলে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। এরমধ্যে গরু-মহিষ আর মানুষে গাদাগাদি করে চলছে কেনাবেচা। হাটে বিক্রেতা, দালাল, ক্রেতা অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। শতকরা ১০ জন ক্রেতা মাস্ক পড়লেও প্রায় আট জনই মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে চলছে প্রকাশ্যে ধূমপান ও পান খাওয়ার হিড়িক। এছাড়া হাটের কাদা পানির মধ্যেই চলছে গরুর মাংসের কালাভুনা খাওয়ার ধুম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সিটি হাট থেকে বছরে কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু সিটি হাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং সিটি হাটেই ফেলা হয় গোটা শহরের ময়লা-আবর্জনা থেকে শুরু করে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ বি এম শরীফ উদ্দীন বলেন, ‘হাটে হাঁটু পর্যন্ত কাদা আর পানি। তিনি নিজেই গরু কিনতে গিয়ে দেখেছেন। বিষয়টি কেন সংস্কারের তালিকায় আসছে না, তা জানার জন্য মেয়র ঠিকাদারকে ডেকেছিলেন।’
এ বিষয়ে সিটি হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু দাবি করেন, তারা হাটে আগত সবাইকে মাস্ক পরার কথা বলেন। কিন্তু কেউ শুনেন না। তারা তো আর ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ না যে, মাস্ক না পড়লে জরিমানা বা গ্রেফতার করতে পারবেন! এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য এখন থেকে হাটের দিন লোক পাঠাবেন। তবে তারা সিটি হাটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন।
