দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য খানিকটা সুখবরই শুনাইয়াছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাহারা এই বত্সর, অর্থাত্ চলতি অর্থবত্সরে ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করিয়াছে। গত অর্থবত্সরের তুলনায় ইহা ৯ শতাংশ বেশি। সেই সঙ্গে ব্যাংক করোনা ভাইরাসের বিপত্তির কথা মাথায় রাখিয়া কিছু নমনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে। কৃষিঋণের সুদের হার সাধারণ সময়ে ৯ শতাংশ। তবে করোনা ভাইরাসের হিসাব মাথায় রাখিয়া সরকার ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিতে মনস্থ করিয়াছে। অর্থাত্ কৃষককে গণনা করিতে হইবে ৪ শতাংশ সুদ। তাহা ছাড়া কিছু কিছু খাতে, যেমন বায়োক্লেফ পদ্ধতিতে মত্স্য চাষ, কনট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতায় গরু মোটাতাজাকরণ এবং একরপ্রতি ফসলের ঋণসীমা বৃদ্ধি করা হইয়াছে। ইহার বাহিরেও ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন এবং রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবার ঘোষণা প্রদান করা হইয়াছে। করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করিতেই বেশ কিছু নূতন পদক্ষেপ লওয়া হইয়াছে।
ধানের জন্যই হউক, গরু কিংবা মত্স্য ফার্মিংয়ের জন্যই হউক; ইহা বুঝিতে হইবে, সরকার আপত্কালীন অর্থনীতির চাকা সচল রাখিবার কথা মাথায় রাখিয়াছে। কারণ, এই বিপুলসংখ্যক কৃষক সম্প্রদায়ের জীবন থমকাইয়া গেলে দেশের অর্থনীতির উপরও তাহার প্রভাব পড়িতে বাধ্য। তাহারাও বাজারের বিভিন্ন উত্পাদনের গ্রাহক। সরকার যে কেবল কৃষকদের হাতে নগদ অর্থের কথা ভাবিয়াছে তাহাই নহে, অন্য খাতগুলির দিকেও কমবেশি অর্থ সঞ্চালনের উদ্যোগ লইয়াছে। করোনাকালীন ইহাই বিশ্বের বহু দেশ পলিসি হিসাবে গ্রহণ করিয়াছে।
যাহাই হউক, কৃষিঋণের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আমরা ইতিবাচক বলিয়া গ্রহণ করিয়াছি। তবে শুনা যায়, কৃষকের হাতে সঠিক সময়ে অর্থ পৌঁছানোয় ব্যত্যয় ঘটিয়া থাকে। তাহা যাহাতে না হয়, সেই দিকে সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলিকে লক্ষ রাখিতে আমরা অনুরোধ করিব। কথায় বলে, ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’। কৃষককে যেন অসময়ের দশ ফোঁড় দিতে না হয় সেই দিকে লক্ষ রাখা অত্যন্ত জরুরি। অপরদিকে জানা গিয়াছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলি নিজেরা সরাসরি ঋণ বিতরণ না করিয়া ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করিয়া থাকে। সেই ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার চড়া হইয়া থাকে, যাহার কারণে কৃষক ঐ সকল সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হন না। অপরদিকে সরকারি ব্যাংকগুলিতে ঋণের ক্ষেত্রে কৃষকের নথিপত্রে ঘাটতি থাকার কারণে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে কৃষক সেইখান হইতে ঋণ গ্রহণ করিতে পারে না। এই বিষয়গুলি আরও পরিষ্কার করা গেলে কৃষক উপকৃত হইবে।
