ছিনতাইকারীদের সাহস বাড়িয়াছে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ২২:১৩

ঈদকে সামনে রাখিয়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাইয়াছে। ছিনতাইকারীরা শুধু টাকাপয়সা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিস ছিনাইয়া লইতেছে না, মানুষকে আঘাতও করিতেছে। সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ায় গরু বিক্রয় করিয়া বাড়ি ফিরিবার পথে তিন গরু ব্যবসায়ীকে কোপাইয়া ১৬ লক্ষ টাকা ছিনতাই করিয়াছে দুর্বৃত্তরা। আহত গরু ব্যবসায়ীরা জানাইয়াছেন, আশুলিয়া হাটে আটটি গরু বিক্রয়ের টাকা লইয়া প্রাইভেটকারে করিয়া বাড়ি ফিরিবার সময় মহাসড়কে যানজটের কারণে টঙ্গাবাড়ী শাখা সড়ক দিয়া রওয়ানা করেন। কিছুদূর যাইতেই বাঁশ দিয়া রাস্তা বন্ধ করিয়া রাস্তার দুই পাশ হইতে সাত-আট জন ছিনতাইকারী আসিয়া তাহাদের গাড়ির কাচ ভাঙিয়া ফেলে। ছিনতাইকারীরা এক গরু ব্যবসায়ীর হাতে চাপাতি দিয়া কোপ মারিয়া, তাহার পিতাকে লোহার রড দিয়া এলোপাতাড়ি মারধর করিয়া ১৬ লক্ষ টাকা ছিনাইয়া লয়। খবর পাইয়া আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিলেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের আটক কিংবা ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। এই দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড হইতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলিয়া লইয়া ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই করিবার অভিযোগ উঠিয়াছে।

আমরা দেখিতেছি, সাম্প্রতিক কালের ছিনতাইয়ের ঘটনায় হিংস্রতা বাড়িয়াছে। চলন্ত প্রাইভেটকার বা মোটরসাইকেল হইতে লোকজনের ব্যাগ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ছিনাইয়া লইবার ঘটনা নূতন কিছু নহে। করোনার মহামারিতে কিছুদিন এই ধরনের অপরাধের ঘটনা কম দেখা গেলেও ঈদকে সামনে রাখিয়া অপরাধীরা পুনরায় সক্রিয় হইয়া উঠিয়াছে। গোয়েন্দা পুলিশ প্রায়শই ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাইয়া গ্রেফতার করে। কিন্তু তাহার পরও ইহাদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পায় নাই। আমরা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দেখিয়াছি, গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ছিনতাইকারীদের নিকট হইতে ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ইত্যাদি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই অনুধাবন করা যায়, ছিনতাইকারীরা কত বিপজ্জনক হইয়া উঠিয়াছে। তাহারা ছিনতাই করিতে গিয়া বাধা পাইলে ধারালো অস্ত্র দিয়া আঘাত করে। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বয়ান অনুযায়ী কখনো কখনো বাধা না পাইলেও ঘটনার একদম শুরুতেই আঘাত করিয়া তাহারা ভুক্তভোগীর মনোবল ভাঙিয়া দেয়। আমরা দেখিয়াছি, ছিনতাইয়ের পরও পুলিশের তেমন কিছু করিবার থাকে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলাই হয় না। আবার মামলা হইলেও ছিনতাইকারীরা সকল ক্ষেত্রে ধরাও পড়ে না। ধরা পড়িলেও কিছু দিন হাজত খাটিয়া পুনরায় অপরাধকর্মে যুক্ত হয়। ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা যত ঘটিতেছে, সেই তুলনায় অপরাধীদের গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তির ঘটনা কম বিধায় অপরাধীরা সাহস পাইতেছে বড় বড় অপরাধ করিতে। 

ছিনতাইকারীদের তত্পরতা সম্পর্কে পুলিশের ধারণা আছে। এমনকি পুলিশের সূত্রেই জানা যায়, কোন কোন এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য অধিক। কোরবানির হাটে কাঁচা টাকার লেনদেন হয় বিপুল পরিমাণে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে পুলিশের টহল বাড়ানোর মাধ্যমে পুলিশি সক্রিয়তা দৃশ্যমান করা উচিত।