একশনএইড বাংলাদেশ ও সানেমের যৌথ ওয়েবিনার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশ শুরু হয়েছে। এই সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু বাজেটে সেভাবে তরুণ ও যুবদের কেন্দ্র করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এগুলোর বাজেটের অর্ধেকের বেশি যুবকেন্দ্রিক নয়। বরাদ্দের মাত্র ৯ শতাংশ তরুণ-যুবকেন্দ্রিক বলা যায়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে যুবদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। তরুণ-যুবকেন্দ্রিক বাজেট কাঠামো বা ‘ইউথ বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারণাপত্র উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানানো হয়। একশনএইড বাংলাদেশ ও সানেমের যৌথ প্রয়াসে এটি প্রণয়ন করা হয়। গতকাল শনিবার ওয়েব সেমিনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সামনে এটি তুলে ধরা হয়।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সভাপতিত্বে এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের সঞ্চালনায় আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইয়ং বাংলা ন্যাশনাল ইউথ প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক এমপি।
ফারাহ্ কবির বলেন, ইউথ বাজেট ফ্রেমওয়ার্ককে কেবল অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, যুবদের সামাজিক অবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের দেশে। যুবদের জন্য যথাযথ ও কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। বাজেট বরাদ্দ যেমন দিতে হবে, তেমনি বরাদ্দকৃত বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ ২২টি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ তরুণ ও যুবদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সমন্বিত পদ্ধতিতে এই বরাদ্দ ব্যয় হলে যুবরা উপকৃত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, ‘আমরা একযোগে কাজ করতে চাই। আশা করছি আমাদের সামগ্রিক কাজে এই ফ্রেমওয়ার্কের একটি প্রতিফলন অবশ্যই আমরা দেখতে পাব। প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় বডি বা তদারকি সেলের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যেন আবার কোনো আমলাতান্ত্রিক বডি না হয়ে পড়ে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন, সঠিক তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কেন্দ্রীয় তদারকি সেল থাকা খুবই জরুরি, যাতে করে যুবদের জন্য বাস্তবায়িত ২২টি মন্ত্রণালয়ের কাজকে সঠিকভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হয়। মাধ্যমিক ও উচচ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব (উন্নয়ন) বেলায়েত হোসেন তালুকদার বলেন, শিক্ষা বাজেটের পুরো বরাদ্দ কার্যত যুবদের জন্যই ব্যয় হয়। তবে দক্ষ যুব গঠনে আন্তমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলে তিনি মনে করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নাজিবুল ইসলাম বলেন, জনমিতি লভ্যাংশের সুবিধা নিতে আরো গুণগত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তবে এই সুবিধা আদায়ে আমরা যেন নাইজেরিয়ার মতো হারিয়ে না যাই; বরং যাতে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করতে পারি সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।
