মার্কিন গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা কোয়ান্টাম ইন্টারনেট তৈরি করতে যাচ্ছেন। এই ইন্টারনেট হবে বর্তমানে প্রচলিত ইন্টারনেটের সম্পূর্ণ বিপরীত। এখনকার ইন্টারনেটে একজনের নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে আরেকজন ঢুকে ‘হ্যাকিং’ কিংবা ‘ধীরগতি’বলে যে শব্দগুলো আছে কোয়ান্টাম ইন্টারনেটে তা থাকবে না। কারো নেটওয়ার্কে অবৈধ অনুপ্রবেশ করা যাবে না এবং এর গতি হবে প্রায় ‘অসীম’। তার মানে মাউস ক্লিকের মাথায় থাকবে সব কিছু, তার ডেটাসাইজ যত বড় হোক না কেন! কেবল পরিকল্পনা করেই দায়িত্ব সারেনি সংশ্লিষ্টরা। গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে একটি প্রোটোটাইপ কোয়ান্টাম নেটওয়ার্কের ধারণা দিয়েছেন তারা। তবে কাজটি শেষ করতে কয়েক বছর লেগে যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইলিনয় ইউনিভার্সিটির শক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা একটি ৫২ মাইল ‘কোয়ান্টাম লুপ’ তৈরি করে এই ইন্টারনেট নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন। পরে তারা জানান, সফলভাবেই একটি দীর্ঘ ও স্থলভিত্তিক কোয়ান্টাম নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, নেটওয়ার্কটি বাস্তবে পরিণত হওয়ার আগে বিজ্ঞানীদের পুরোপুরি নতুন কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কিছু জিনিস তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হবে। কারণ এই গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গেলে হার্ডওয়্যারকেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বর্তমানে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারগুলো কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের গতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে কি না, সেটি নিয়েও তাদের ভাবতে হবে। তারা বলছেন, এই ইন্টারনেট বাস্তবে রূপ পেলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বহু গুণে উন্নত হবে। ইন্টারনেটের গতি যদি মেগাবিট কিংবা গিটাবিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে তাহলে সব কাজেই গতি আসবে। মানুষ প্রযুক্তির আরো বেশি সুফল পাবে। তবে প্রাথমিকভাবে নেটওয়ার্কটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। রাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন অঙ্গনে প্রয়োগ হবে। —সিএনএন
