করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল দোকান। আবার যখন খুলেছে তখনো বেচা-বিক্রি নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। এতদিনের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে ঈদের সময় দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান খোলা রাখার সময় অন্তত দুই ঘণ্টা বাড়ালে ক্রেতাদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটার সুযোগ করে দিতে পারবেন তারা। গত ১ জুলাই থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার সরকারি নির্দেশনা মেনেই চলছে বেচাকেনা। এর আগে গত ১ জুন থেকে টানা এক মাস সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে বেচাকেনা চলে। এর আগে ২৫ মার্চ থেকে প্রায় দুই মাসের বেশি সময় করোনা ভাইরাসের ভয়ে বেচাকেনা গুটিয়ে রেখেছিলেন ক্ষুদ্র দোকানিরা।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, দোকান মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২০ দিন আগে বেচাকেনার সময় বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। ওনারা বিবেচনা করবেন বললেও এখনো কিছু হয়নি। ঈদের আছে আর মাত্র পাঁচ দিন।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে আবেদন না করে উপায় ছিল না। সন্ধ্যার দিকে কাস্টমাররা আসতে শুরু করেন। আর ঐ সময়ই পুলিশসহ প্রশাসনের অন্যান্য লোকজন দোকান বন্ধ করতে হুলস্থূল শুরু করে দেন। এভাবে তো বেচাকেনা করা যায় না।
ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহসান বলেন, এর আগে ব্যবসায়ীরা কখনো এত বিপদে পড়েনি। ব্যবসা চলছে না অথচ অন্যান্য সব খরচ প্রায় আগের মতোই চলছে। কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও দেওয়া লাগছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের কাছে এর একটা সমাধানের জন্য আবেদন করে আসছিলাম। স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক গাইডলাইন অনুসরণ করেই মার্কেট ও দোকানগুলো চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকার নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ডাক্তার শাহীন আহমেদ বলেন, প্রশাসনের নির্দেশেই ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি অন্তত ঈদের আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞাটা যেন তুলে নেওয়া হয়। ক্ষুদ্র দোকানিরা যেন কিছুটা বেচাকেনা করে তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।
