‘দেনার’ টাকা শোধ করতে না পেরে এক কৃষক বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তার পরিবার থেকে জানানো হয়, পেটের পীড়ার কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।
আত্মহত্যাকারী কৃষক হলো শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর মুনসী পাড়া গ্রামের শুকুরুদ্দিনের ছেলে জোবদুল হোসেন( ৫০)।পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়না তদন্তে পাঠানোর ও ইউডি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এলাকাবাসী জানানা, রবিবার সকালে বিশ্বনাথপুর গ্রামের ইসরাইলের ছেলে ফরিদুল ইসলাম মাছ ধরার জন্য মাঠে যাবার সময় বেগমের জমিতে জোবদুলের লাশ দেখতে পেয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল্ ইসলামকে সংবাদ দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে এবং জোবদুলের আত্মীয়স্বজনরা লাশ বাড়ি নিয়ে আসে। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
জোবাদুলের স্ত্রী সাজেনুর বেগম জানান, গতরাত ১০টার দিকে এক সঙ্গে ঘুমিয়েছি। রাত সাড়ে ১১টার জেগে দেখি আমার স্বামী নেই। তখন থেকে আমি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাইনি। সকালে জানতে পেরেছি যে আমার স্বামীর লাশ মাঠে বেগনের জমিতে পড়ে আছে।
সাজেনুর আরো জানান,তার স্বামী কয়েকটি এনজিও ও ব্যাংক থেকে কয়েক লাখ টাকা লোন তুলে জমি বর্গ নিয়ে কৃষি কাজ করতো। তাছাড়া একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা লোন তুলে আমার অজান্তে তার বন্ধু একই গ্রামের পেঁচি পাড়ার ফড়িংয়ের ছেলে খোকনকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল । কিন্তু খোকন কোন কিস্তি না দিয়ে বিভিন্ন টালবাহনা করেছে। কয়েকদিন আগে আমি তা জানতে পেরেছি। কিস্তির টাকা বাকী থাকলেও এনজিওগুলো কোন চাপ প্রয়োগ করেনি। ঈদের পরে দিতে চেয়েছি। তবে আমার স্বামীর পেটের পীড়া ছিল। আমার ধারনা পেটের পীড়ার জন্য সে আত্মহত্যা করেছে। কারো ওপর আমার কোন অভিযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, আমরা শুনেছি এনজিও ও ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পেরে জোবদুল বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এস আই নুরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি।লাশ ময়না তদন্তে পাঠানো হবে এবং ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে॥ থানায় একটি ইউডি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
