গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে বিধ্বস্ত শংকরদহ গ্রাম

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ২১:২১

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

বন্যায় তিস্তার ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ গ্রামটি গত চার-পাঁচ বছরে কয়েক দফা বিধ্বস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম, পুকুরসহ ৩৫০ পরিবারের বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে। ভাঙনে মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে শংকরদহ গ্রামটি। সরেজমিনে শংকরদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নতুনভাবে নির্মিত শংকরদহ আদর্শ গ্রামটি আর নেই। শংকরদহ এলাকায় বাঁধটিও ভেঙে গেছে। কিন্তু তিস্তায় পানি একটু কমে যাওয়ায় এখনো পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেনি। পানি বৃদ্ধি পেলে যে কোনো সময় ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ভেতরে প্রবেশ করবে। তলিয়ে যাবে ৫০ হাজার পরিবার। ভাঙনের কবলে পড়ে লোকজন বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। নৌকা কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে করে আসবাবপত্র নিয়ে যাচ্ছে। লোকজনের একমাত্র ভরসা নৌকা। বন্যার পানি নেমে গেলেও শুরু হয়েছে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, গাছপালা, বাঁশঝাড়সহ তিস্তায় বিলীন হচ্ছে শংকরদহ গ্রাম। গঙ্গাচড়ার মহিপুরে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু পেরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিম দিকে দুর্গম চর শংকরদহ। ঐ চরে যাওয়ার পথে দেখা যায়, কয়েক দিনের প্রবল বন্যায় রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। চোখে পড়ে সর্বস্বান্ত লোকজন থালা-বাসন, হাঁস-মুরগি ও কাঁথা-বালিশসহ ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা সংসারের জিনিসপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নদীর কিনারায়। নৌকা আসলেই তারা চলে যাবে শংকরদহর মায়া ত্যাগ করে অন্য কোনো এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শংকরদহ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকত ৩০টি পরিবার। শংকরদহ গুচ্ছগ্রামে থাকত ৬০টি পরিবার। গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি ভেঙে যাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন।

এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল মোন্নাফসহ লোকজন জানান, এবারের বন্যাসহ তিস্তার ভাঙনের কারণে ৩৫০ পরিবারই আজ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে বাকি পরিবারগুলোও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তারা। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, শংকরদহ এলাকাটি এখন বিরানভূমি। এর সামনে দিয়ে বাঁধ না দেওয়ায় শংকরদহের বাকি অংশটুকুসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তিস্তার পেটে যাবে। সেই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে মহিপুর-কাকিনা তিস্তা সড়ক সেতু।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, শংকরদহ গ্রামকে আর রক্ষা করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, যেহেতু তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে সেহেতু এখানে নতুন করে সমীক্ষা করতে হবে।