শুভ জন্মদিন
শামীমা আক্তার তন্দ্রা
তরুণ প্রজন্মের আইকন হয়ে উঠেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। যিনি বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইটিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসার প্রতীক।
ভারতের ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আইটি টেকনোলজি থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর বিএসসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওপর বিশেষ ডিগ্রি লাভ করেছেন।
তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীর পুত্রই নন, তিনি ভবিষ্যত্ বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার বাবা ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন একজন খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী।
জয় যখন পৃথিবীর আলোয় প্রবেশ করেন তখন তার জন্মভূমি মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে রঞ্জিত। বাংলার আকাশ থেকে কালোছায়া যখন সরে গিয়ে নতুন সূর্যোদয় ঘটছে ঠিক তখনই জয়ের জন্ম। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম জয়ের হাত ধরে আরেকটি নতুন বাংলাদেশ দেখার অপেক্ষায় এদেশের তরুণ প্রজন্ম। ২৭ জুলাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন। ১৯৭১ সালে তার জন্মের চার মাস পরই বঙ্গবন্ধুর বাংলা থেকে পাকিস্তানি শত্রুরা পরাজিত হয়ে বিতাড়িত হয়।
জয়ের কাছে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা তার মাতৃভূমির সিংহ পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন এই বাংলার নিরীহ জনগোষ্ঠীর জন্য হাল ধরেছিলেন ঠিক তেমনি তিনি তরুণ প্রজন্মের হাল ধরবেন। সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার। বাংলাদেশ ডিজিটাইজেশনের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।
দেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিতে এবং পূর্ণাঙ্গ-স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুইটি ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এর একটি হচ্ছে—ক্যাশলেস সমাজ গঠন অর্থাত্ সকল লেনদেন নগদের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে করা। অপরটি হচ্ছে—সব সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা। ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি কমে যাবে; সরকারের আয় বাড়বে। সবার টাকার একটা ‘ট্রেস’ থাকবে। আর সরকারি সেবাগুলোকে পুরোপুরি অনলাইনে নিয়ে আসতে হবে। জনগণ যেন ‘ইন লাইন’ (অপেক্ষমাণ) না থাকেন বরং ‘অনলাইন’ থাকেন সেই বিষয়ে জয় কাজ করে যাচ্ছেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইন্টারনেটকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ইউনিয়ন পর্যায়ের পাশাপাশি চর বা পার্বত্য অঞ্চলের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকা ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে আছে, কাজ চলছে সেগুলোতেও।
আইসিটি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। ২০১৪ সালে উচ্চগতির ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে জেলা পর্যায়কে ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনা হয়। ২০১৫ সাল থেকে সেটি উপজেলা পর্যায়ে সম্প্র্রসারণ শুরু হয়। প্রায় ৩ হাজার ইউনিয়নে বর্তমানে ফাইবার অপটিক সংযোগ রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা আছে, ২০২১ সাল নাগাদ দেশের সব ইউনিয়ন অর্থাত্ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছে দেওয়ার।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসির গত এপ্রিল মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১০ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন। তার প্রচেষ্টায় দেশে বেশ কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম জয়ের জন্য গর্বিত। তারা চায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যেন ডিজিটাইজেশনের সুফল মানুষ ভোগ করে। তার হাত ধরেই যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হয়। তার জন্মদিন যেন নতুন সাফল্য বয়ে আনে। জীবনের প্রতিটি জন্মদিনে যেন তার প্রত্যাশা থাকে এই বাংলার মানুষের কল্যাণে। শুভ জন্মদিন সজীব ওয়াজেদ জয়।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
