আরিফ, মামুন, রিপন ছিলেন ঢাকার মাঠ কাঁপানো ফুটবলার। কিন্তু ফুটবল তাদের রুটি-রুজির নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। যে কারণে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে তাদের পেশা বদল করতে হয়েছিল। তাদের একজন হয়েছেন রাজমিস্ত্রি, একজন ঝাড়ুদার, আরেক জন ইজিবাইক চালক। তিন ফুটবলারের করুণ জীবনের বিষয়টি একজন ক্রীড়া সংগঠকের নজরে পড়লে তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি। পেশা বদল করা ঐ তিন জনকে তিনি আবার ফুটবলে ফিরিয়ে এনেছেন।
নারায়ণগঞ্জের ছেলে আরিফ হাওলাদার। ২০১৮-১৯ মৌসুমে অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলেছেন। এর আগে তিনি আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, টিম বিজেএমসিতেও খেলেছেন। শেখ জামাল ধানমন্ডির মতো ক্লাবে খেলা আরিফ ২০১৯-২০ মৌসুমে খেলা না হবার কারণে দল পাননি। এ কারণে তিনি ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়ে যান। এক বছর আগে স্ট্রোক করে আরিফের বাবা শয্যাশায়ী হন। মায়ের শরীরও অসুস্থ। লীগ না হওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখেন আরিফ। উপায় না দেখে তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতে থাকেন।
এদিকে সর্বশেষ বাসাবো তরুণ সংঘের হয়ে খেলেছেন খুলনার হাসান আল মামুন। করোনার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ায় তিনি ইজিবাইক চালনোর কাজে যুক্ত হন।
ফরিদপুরের রিপন কুমার দাস গত মৌসুমে টিঅ্যান্ডটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তিনিও ফুটবল ছেড়ে ঝাড়ুদারের মতো পেশায় চলে যান।
এদিকে আরিফ, মামুন এবং রিপনকে ফুটবলের ধারায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হন বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফসিএ) সভাপতি এবং সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান তরফদার মো. রুহুল আমিন। তিনি ঐ তিন জনের প্রত্যেক পরিবারকে আর্থিকসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দায়িত্বও নিয়েছেন। এ সময় তারা যাতে অনুশীলনে থাকতে পারেন সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ বিষয়ে তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার পরিকল্পনার অভাবে এভাবে অনেক ফুটবলার হারিয়ে যাচ্ছেন। ফুটবল ছেড়ে ফুটবলারদের ভিন্ন পেশায় চলে যাওয়া জাতির জন্য লজ্জাজনক। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন লীগ চালু হলে খেলোয়াড়দের ফুটবল ছেড়ে ভিন্ন পেশা নিতে হতো না। যারা ভিন্ন পেশা নিয়েছেন, তারা সবাই ভালো মানের খেলোয়াড়। গত ১২ বছরেও ফুটবলের অবকাঠামো না হওয়ায় তিনি বাফুফেকে দায়ী করেন। এ অবস্থার উত্তরণে তিনি নিয়মিতভাবে লীগ আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাইফ স্পোর্টসের সহায়তার বিষয়ে আরিফ ইত্তেফাককে বলেন, গত বছর দল না পাওয়ার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে যাই। বাবা-মা অসুস্থ থাকায় পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য বাধ্য হয়েই রাজমিস্ত্রির কাজ করেছি। সাইফ স্পোর্টিং আমাকে আর্থিকসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছেন। হাসান আল মামুন জানান, ফুটবলে দুর্দশা হবার পর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিবারকে বাঁচাতে ফুটবল ছেড়ে দিনমজুরের কাজ করেছি। একসময় আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। সাইফ স্পোর্টসের কর্ণধার আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। রিপন কুমার দাসের কণ্ঠেও একই কথা। তিনি বলেন, একসময় ফুটবল খেলে জীবন ধারণ করা হতো। ফুটবল বন্ধ হবার পর কষ্টে পড়ে যাই। আর্থিকসহায়তা পেয়ে এখন জীবনে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
