অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ভাড়া’ করে প্রতারণা!

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ২২:৪৭

কায়েস হোসেন। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। এক সময় ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। ২০১৮ সালের দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার একটি ব্যাংকের সামনে দেখা হয় এক নাইজেরিয়ান নাগরিকের সঙ্গে। গড়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। আর ঐ নাইজেরিয়ান নাগরিকের প্রলোভনে পড়ে (ফেসবুকে বন্ধুত্ব করে ) গিফট পাঠানোর নামে প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন কায়েস। প্রথম দিকে প্রতারণার অর্থ নিজের একাউন্টে জমা করতেন। পরে টাকা তুলে নাইজেরিয়ান নাগরিকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে কায়েস অন্য ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার শুরু করেন। জমা টাকার ৫ শতাংশ লাভ দেওয়ার শর্তে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তির একাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ঐ সব   একাউন্ট হোল্ডারদের দিয়ে খালি চেকে স্বাক্ষর নিয়ে রাখতেন। আর প্রতারণার টাকা একাউন্টে জমা হবার পরই স্বাক্ষর করা চেক দিয়ে  দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা তুলে নিতেন।

সিআইডি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন কায়েস হোসেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে কায়েস ও তার  সহযোগী সুজন মাঝিকে গ্রেফতার করে। তবে এর আগে  গ্রেফতার করে কায়েসের স্ত্রী শাহিদা খাতুনকে। তার দেওয়া (শাহিদা) তথ্যমতে কায়েসকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি জানিয়েছে, ফেসবুকে গিফট দেওয়ার নামে প্রতারণায় সক্রিয় তিন স্তরের প্রতারক চক্র। এর আগে প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের প্রতারক গ্রেফতার হলেও তৃতীয় ধাপের প্রতারককে গ্রেফতার করা যায়নি। কায়েস হোসেন হলেন তৃতীয় ধাপের প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা।

সিআইডির (সাইবার ইউনিট) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে কায়েস জড়িত। শাহিদা খাতুনও স্বামীর সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। কায়েসের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্বাক্ষর করা ১৮৫টি খালি চেক ও ৪৮টি চেক বই, চারটি  মোবাইল ও একটি ডেবিট কার্ড।

সিআইডির সাইবার পুলিশের সিনিয়র পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, ফেসবুকে বন্ধুত্ব করে গিফট পাঠানোর কথা বলে এই প্রতারণা করা হয়। প্রথম ধাপে নাইজেরিয়ার নাগরিকরা ফেসবুকে বন্ধুত্ব করে, এক পর্যায়ে তারা বন্ধুর জন্য গিফট পাঠিয়েছে বলে জানায়। দ্বিতীয় ধাপে প্রতারক চক্রের বাংলাদেশি নারী নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে ভিকটিমকে বলত, আপনার নামে দামি গিফট এসেছে। এর জন্য শুল্ক পরিশোধ করতে হবে বলে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিত ভিকটিমকে। পরে ভিকটিম ঐ অ্যাকাউন্টে তাদের দাবি অনুযায়ী অর্থ পাঠিয়ে দিলে প্রতারক চক্রটি  সেই টাকা হাতিয়ে নেয়। তৃতীয় ধাপে প্রতারক চক্রের গ্রুপটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট  থেকে অর্থ সংগ্রহ করত।

সিআইডির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, এরা বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করত। বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের ক্ষেত্রে তারা অ্যাকাউন্টধারীদের প্রলোভন দেখাত, ব্যাংকে টাকা এলে তার ৫ শতাংশ অ্যাকাউন্ট  হোল্ডারদের  দেওয়া হবে। তাদের ফাঁদে পা দিলে প্রতারক চক্রটি অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের থেকে চেক বইয়ের সাইন করা পাতা ও চেক বই নিয়ে নিত। কায়েসের নামে এ ধরনের ১৫টি অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য নামে আরো ৩৩ অ্যাকাউন্ট নম্বর পেয়েছে সিআইডি।