ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ২৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ০০:১৫

এ বছর ঢাকায় কোরবানির লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত এক অনলাইন সভায় এই দর চূড়ান্ত করা হয়।

তবে এ বছর নির্ধারিত কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য গত বছরের থেকেও কম হওয়ায় গরিব-অসহায় মানুষরা তাদের ন্যায্য হক থেকে বঞ্চিত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গত বছর গরুর চামড়ার দাম ছিল ঢাকায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কমানো হয়েছে খাসির ও বকরির চামড়ার দামও। গত বছর খাসির চামড়ার দাম ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর গত বছর বকরির চামড়ার দর ছিল প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

চামড়ার দর কম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সারাদেশকে স্থবির করে দিয়েছে। রপ্তানি কমে গেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঈদের দিন থেকে দেশব্যাপী কঠোরভাবে বিষয়গুলো মনিটরিং করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত মনিটরিং টিম। এছাড়া চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আড়তদারদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়ার দাম না পেয়ে পথে বসেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অনেকেই চামড়া ফেলে দেন। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যদি গত বছরের মতো সমস্যা হয় ন্যায্যমূল্য না পাই তাহলে চামড়া রফতানি করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়ে রেখেছি বলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান। এজন্য ট্যানারি মালিকদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া যাতে পাচার না হয় সেজন্য সীমান্ত এলাকায় তদারকি বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া চামড়া সংরক্ষণে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় তথ্য সচিব কামরুন নাহার, এফবিসিসিআই-এর সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার,  লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান সভায় সংযুক্ত ছিলেন।