মধুমতি নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাটের উভয় পাড়ের পন্টুনের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ২২ জুলাই ওই ফেরি ঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে যায়। তারপর থেকে ঘাট কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাট। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ খুলনা, নড়াইল, যশোর, নওয়াপাড়া, বেনাপোল বন্দরসহ ১০ জেলায় চলাচল করে। এ ঘাট দিয়ে কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, নছিমনসহ অন্যান্য যানবাহন পারাপার করা হয়।
কাশিয়ানী উপজেলার বুধপাশা গ্রামের সালাউদ্দিন মৃধা সুজন (৫২) বলেন, ‘মধুমতি নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর দু’পাড়ের গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে যানবাহন পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানি ঝাঁপিয়ে ফেরি ও খেয়ায় উঠতে হচ্ছে। আমাদের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ ট্রাক চালক জয়নাল বলেন, এ ঘাটে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক পার করতে হচ্ছে। গ্যাংওয়ে ক্রস করার সময় গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে ক্ষতি হচ্ছে।
ঘাট ইজারাদার মো: মঞ্জুর হাসান বলেন, ‘নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরিঘাটের পন্টুনের দু’পাড়ের গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে। নদীতে ভাটার সময় কিছুটা দুর্ভোগ কমলেও জোয়ারের সময় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। ফলে ফেরি পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগছে। এ কারণে ঘাট পারাপারে যাত্রী সাধারণকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’
ফেরি চালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্যাংওয়ে তলিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠা-নামায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া নদীতে স্রোত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ কারণে ফেরি পারাপারে বেশি সময় লাগছে। ঘাটের অবস্থা ভালো নয়।’
গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী সাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘মধুমতি নদীতে জোয়ারের সময় কালনা ঘাটের গ্যাংওয়ে তলিয়ে পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমরা ফেরি ঘাট পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করেছি। সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে।’
ইত্তেফাক/আরকেজি
