নাটোরের সিংড়া উপজেলার কতুয়াবাড়ী-বলিয়াবাড়ি রাস্তার মহেশচন্দ্রপুর কলকলি নামক স্থানে দুপুরে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। রবিবার দুপুরে আত্রাই নদীর পানির প্রবল স্রোতে বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। বাঁধ ভেঙ্গে কলম-চানপুর বিলে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে কলম ইউনিয়ন প্লাবিত হবে। বিশেষ করে কলম, কুমারপাড়া, বলিয়াবাড়ি, জগতপুর, নজরপুর, কলকলিপাড়াসহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানান কলম ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু। তিনি বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শন এবং খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
অপরদিকে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো: শাহরিয়াজ, উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ইউএন ও নাসরিন বানু পরিদর্শন করেছেন। এদিকে রবিবার আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৯৩ সে: মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার সুকাশ ও হাতিয়ান্দহ ব্যতিত ১০টি ইউনিয়ন এবং সিংড়া পৌর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে দু হাজার বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। সিংড়া পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সিংড়া বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে আইসিটি জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি ও ব্যক্তিগত ভাবে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন। এদিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা এবং বন্যার্তদের সহায়তা করে যাচ্ছেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস। এছাড়া জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থা ও এগিয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, যুবলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী জানান, আমরা গত কয়েকদিন থেকে বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আজ রবিবার দুপুরে প্রবল পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায়। আমরা এখনো চেষ্টা অব্যহত রাখছি। কলম ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু জানান, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির নির্দেশনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পবিস-১ এর ডিজিএম রেজাউল করিম জানান, বাঁধ এলাকায় জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বিধায় আমরা আপাতত বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, আমরা বাঁধটি পুনরায় রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
