ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে তৃতীয় ধাপে গত কয়েকদিনে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় সকল এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। সেই সাথে নিমজ্জিত ও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের মানুষ।
চরম দুর্ভোগে থাকা চরাঞ্চল ও বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দী মানুষ গরু ছাগলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বেড়িবাঁধ, হেলিপ্যাড ও আশ্রয়কেন্দ্রের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন কাঁচা-পাকা সড়ক।
রবিবার বন্যাকবলিত কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন উঁচু স্থানে গবাদি পশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর কল্যাণ পুর লস্কর ডাঙ্গী হতে আসা দুটি পরিবারের সুখজান(৫০) ও নাছিমা আক্তার (৪৫) এর সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়িতে পানি ওঠায় জীবন বাঁচাতে শনিবার ১৫টি গরু ও ৮টি ছাগল নিয়ে হেলিপ্যাডে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। সাথে নিয়ে এসেছেন হাঁস-মুরগি ও কুকুর-বিড়াল। দিনে দিনে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গো-খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নানা সমস্যায় রয়েছেন তারা।
বন্যা নিয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ জানান, উজানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১৯ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানিবন্দী পরিবারের বিষয়ে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানান, উপজেলার প্রায় সকল গ্রামসহ নদীর তীরবর্তী পরিবার ও বেড়িবাঁধের ভেতর-বাহির মিলে প্রায় ১৫ হাজর পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ পঞ্চাশ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা নিবেদন
উপজেলার প্রধান কয়েকটি সড়ক বাদে কাঁচা ও পাকা সড়ক বিভিন্ন স্থানে ক্ষতি হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান আজাদ খান। গাজিরটেক ইউনিয়নের নিমজ্জিত ৩ হাজার পরিবার ও এক হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। এইসবিবি সড়ক ১৪টি, ১৭টি কাঁচা রাস্তা ও কয়েকটি কালভার্ট ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী। চরঝাউকান্দায় নিমজ্জিত রয়েছে ১ হাজার ১০০ পরিবার। এইচবিবি ৪টি ও কাঁচা ৮টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ত্রাণ পেয়েছে ৮৭৫ পরিবার।চরহরিরামপুরে নিমজ্জিত ৩ হাজার ৬০০ পরিবার। ১ হাজার ৬০০ শত পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ও গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। চরাঞ্চলে স্যানিটেশন, গো-খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলভীর হোসেন জানায়, বন্যায় এ পর্যন্ত ৫৩০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আউস-২০৮ হেক্টর, বোনা আমন-২১০,সবজি-৩০,বীজতলা-৭ ও রোপা আমন রয়েছে ৭৫ হেক্টর।
সোমবার পানিবন্দী পরিবারে সাহায্য সহযোগিতার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘সরকারিভাবে বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে আমাদের শুকনো খাবার,শিশু খাদ্যসহ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষকে সব রকমের সহায়তা করা হচ্ছে।এছাড়া বন্যার্তদের মাঝে পানি রাখার ক্যান, বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট বিতরণের পাশাপাশি গো-খাদ্য সংকট মোকাবেলায় তালিকা তৈরি করে খুব শিগগিরই সহায়তা প্রদান করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, ‘এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে ১০ কেজি হারে ৫০ মে.টনসহ মোট ৬৯.৫ মে.টন ত্রাণের চাল বিতরণের পাশাপাশি শুকনো খাবার ১ হাজার ৪০০ দশ প্যাকেট ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ১০০ প্যাকেট শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম
