আগাথা ক্রিস্টির গোয়েন্দা কাহিনির
পাশাপাশি তার সৃষ্ট দুটি চরিত্র- হারকুল
পোয়েরত ও মিস মার্পেল বিপুল জনপ্রিয়তা
পেয়েছে। বিবিসি ওয়ান টিভি চ্যানেলে
আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাস ‘দ্য এবিসি মার্ডার্স’
অবলম্বনে একটি টিভি সিরিজ শুরু করতে
যাচ্ছে যাতে হারকুল পোয়েরত চরিত্রে
অভিনয় করছেন প্রখ্যাত অভিনেতা
জন ম্যালকোভিচ
g
আশেক খান আলেখীন
বিশ্বের রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যের জগতে যে কয়েক জন লেখকের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়ে থাকে, আগাথা ক্রিস্টি তাদের মধ্যে অন্যতম। ব্রিটিশ এ লেখিকার ৬৬টি গোয়েন্দা উপন্যাস এবং ১৪টি ছোটগল্প গত এক শতাব্দীজুড়ে গোটা পৃথিবীর রহস্য-রোমাঞ্চ পিপাসু পাঠকদের প্রাণের খোরাক জুগিয়েছে। তার সবকটি বই-ই ছিল বেস্ট সেলার। শুধু রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়, দুনিয়ার তাবত্ সাহিত্যের ক্ষেত্রে শেক্সপিয়ার এবং বাইবেলের পর আগাথা ক্রিস্টির বই-ই সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। সর্বকালের বেস্ট-সেলার (২শ কোটি) নভেলিস্ট হিসেবে তার নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ স্থান পেয়েছে। তার লেখা গোয়েন্দা নাটক ‘মাউস ট্র্যাপ’ সবচেয়ে বেশি মঞ্চস্থ হয়েছে। তার লেখা ৩০টি উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, তার সব উপন্যাস ও ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে প্রচুর টিভি সিরিজ, ভিডিও গেমস, কমিকস। আগাথা ক্রিস্টির গোয়েন্দা কাহিনীর পাশাপাশি তার সৃষ্ট দুটি চরিত্র- হারকুল পোয়েরত ও মিস মার্পেল বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিবিসি ওয়ান টিভি চ্যানেলে আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাস ‘দ্য এবিসি মার্ডার্স’ অবলম্বনে একটি টিভি সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে যাতে হারকুল পোয়েরত চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রখ্যাত অভিনেতা জন ম্যালকোভিচ। সেই ১৯২০ সালের পর থেকে আজও তার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপন্যাসের সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মতো আগাথা ক্রিস্টির নিজের জীবনও ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। যার কিছু নিদর্শন নিচে দেওয়া হলো:
১. সার্ফিং এক্সপার্ট!
আগাথা ও তার প্রথম স্বামী আর্চিবাল্ড ক্রিস্টি সার্ফিং-এ অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। ইউরোপীয় প্রথম দিককার সার্ফারদের কথা বলতে গেলে এ দুজনের নাম অবধারিতভাবে চলে আসবে।
২. বিষে আসক্তি!
বিভিন্ন রকম বিষ সম্পর্কে জানতে আগাথার ছিল প্রচুর আগ্রহ। এই আগ্রহটা তার জন্মায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নার্সের কাজ করার সময় এবং পরবর্তীতে স্থানীয় হাসপাতালের ওষুধ নিয়ে পড়াশুনার সময় ডিসপেনসারিতে কাজ করতে গিয়ে।
৩. আগাথাকে খুন করতে চেয়েছিলেন তার প্রথম স্বামী!
১৯২৬ সালে ‘দ্য মার্ডার অব রজার অকওয়ার্ড’ নভেলের সুবাদে আগাথার জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। আগাথার স্বামী আর্চি ক্রিস্টির সঙ্গে তার গলফ পার্টনার ন্যান্সি নিলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ঠিক সেই সময়টাতেই ১১ দিনের জন্য লাপাত্তা হয়ে যান আগাথা। বিখ্যাত এ লেখিকাকে খুঁজে পেতে পুলিশ হন্যে হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে একটি হোটেলে পাওয়া যায় তাকে। তার সাময়িক স্মৃতিভ্রংশ (অ্যামনেশিয়া) ঘটেছিল যে ১১ দিনের স্মৃতি আর কখনো ফিরে আসেনি তার। আগাথাকে তার স্বামী খুন করার চেষ্টা করেছিল বলে পুলিশ সন্দেহ করে। ফলে ১৯২৮ সালে স্বামী আর্চিকে ডিভোর্স দেন আগাথা।
৪. ফটোগ্রাফিতে আগ্রহ
১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে আর্কিওলজিস্ট ম্যাক্স ম্যালোয়ানকে বিয়ে করেন আগাথা। স্বামীর পেশার সুবাদে সিরিয়া ও ইরাকে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয় তার। সেই সঙ্গে খুঁড়ে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ছবি তোলার কাজও শুরু করে দেন তিনি। হয়ে ওঠেন এক্ষেত্রে একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার। ইরাক ও সিরিয়ায় লব্ধ অভিজ্ঞতা তার ‘ডেথ অন দ্য নাইল’, ‘মার্ডার ইন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ এবং ‘মার্ডার ইন মেসোপটিমিয়া’ উপন্যাসে কাজে লাগান তিনি।
৫. নিজের সৃষ্ট চরিত্রকে হত্যা
আগাথা তার সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র হারকুল পোয়েরতের প্রতি এক সময় নিজেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং ১৯৪০ সালে লেখা ‘কার্টেন’ নামক ছোটগল্পে পোয়েরত খুন হয়ে যায় বলে দেখান। কিন্তু পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও প্রকাশকের চাপে তিনি গল্পটি সে সময়ে প্রকাশ করতে পারেননি। পাণ্ডুলিপিটি তিনি তার সিন্দুকে তুলে রাখেন এবং পোয়েরতকে নিয়ে উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখার কাজ চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর একবছর আগে ১৯৭৫ সালে পোয়েরতের খুন সংক্রান্ত সেই ছোটগল্পটি তিনি শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক টাইমস পোয়েরতের মৃত্যু নিয়ে সে সময়ে একটি শোক সংবাদও ছেপে দেয়।
৬. স্কুলের গণ্ডি পার হননি, জ্ঞান অর্জন করেছেন বাবার
বিশাল লাইব্রেরি থেকে
আগাথা ক্রিস্টি স্কুলের গণ্ডি পার হননি, জ্ঞান অর্জন করেছেন বাবার বিশাল লাইব্রেরি থেকে যা তাকে পৃথিবীর সেরা রহস্য ঔপন্যাসিক হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
