গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও ত্রাণ অপ্রতুল

গোবিন্দগঞ্জের নতুন করে আরো ১৮ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ২৩:৫৭

অবিরাম বৃষ্টি ও বাঁধ ভেঙ্গে গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় কোন কোন নদীর পানি সামান্য কমেছে আবার কোনটার কিছুটা বেড়েছে। এখনও জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ভরা নদীতে বৃষ্টির পানি নেমে যেতে না পেরে এবং বাঁধ ভেঙ্গে জেলায় নতুন নতুন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এদিকে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে প্রায় ১ মাস থেকে নিমজ্জিত এলাকার মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় তারা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেসব পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও বিভিন্ন উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে তারা বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোচাদহ গ্রামে বাঙ্গালী নদীর বাঁধ গতকাল রাতে ভেঙে গেছে। ফলে উপজেলার বোচাদহ, বালুয়া, ছয়ঘরিয়া, শ্রীপতিপুর, কুমিড়াডাঙা, পুনতাইর, পাছপাড়া, গোপালপুর, জিরাই, সোনাইডাঙ্গা, হরিনাথপুর-বিশপুকুর, কাজিরচক, পচারিয়া, মাদারদহ, কাজিপাড়া, ফরিকরপাড়া ও পানিয়া গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল এবং ঘরবাড়ী তলিয়ে গেছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছরের বন্যায় এই এলাকায় বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। কিন্তু চলতি বছর গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসিনতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনসি এন্টারপ্রাইজ দেরীতে বাঁধটির সংষ্কার কাজ শুরু করেন। কাজ শেষ হতে না হতেই বন্যা চলে আসায় বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। 

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ ঠিকাদার ও পাউবোর গাফলতির কথা স্বীকার করে জানান, বাঁধের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য কাজ শুরু করা হবে। 

অপরদিকে ভরা নদীতে পানি নেমে যেতে না পারায় অবিরাম বৃষ্টিতে সাদুল্লাপুরের কামারপাড়া, রসুলপুর, দামোদরপুর ও বনগ্রাম ইউনিয়ন এবং গাইবান্ধার কুপতলা, খোলাহাটি, ঘাগোয়া ও গিদারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলোর বসতবাড়ি ও সড়কগুলো এখন হাটু পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা পৌরসভার অনেক নিচু এলাকাগুলোতেও পানি উঠে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ফলে জেলায় এখন সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর ও গাইবান্ধা সদরসহ ৭ উপজেলায় ৩৮টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে।

গাফলতির কথা অস্বীকার করে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, ভেঙ্গে যাওয়া এলাকায় পাউবো গত ৩ জুলাই কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পাঠান। কিন্তু এলাকার লোকজনের অসহযোগিতার কারণে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় নাই। ফলে পানির চাপে ও অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে বাঁধটি ধ্বসে গেছে।  

তিনি আরও জানান, গত চব্বিশ ঘন্টায় জেলায় নদ-নদীর পানি সামান্য করে কমেছে। কিন্তু গত চব্বিশ ঘন্টায় জেলায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। তিনি জানান, রোববার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮৮ সে.মি. ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সে.মি. ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসআই