ট্রাম্প কি আবারও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট?

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ২১:৪১

মো. হাছিবুল বাসার মানিক

বৈশ্বিক গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ ও পশ্চিমা উদারনীতিবাদের অভিভাবক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পুরো বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এ কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই চার বছরের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি কে হতে যাচ্ছেন, সেটি জানার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে বিশ্ববাসী। করোনায় বিপর্যস্ত এই বছরে আরেকটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে আমেরিকায়, যেটির রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এবারের নির্বাচন কি গুরুত্বের দাবি রাখছে?

করোনার ফলে বেশির ভাগ দেশের মতো বিপর্যস্ত হয়েছে আমেরিকাও। অনেক দেশের চেয়ে আমেরিকায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি ও সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। একটি সুপার পাওয়ার দেশের সঙ্গে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই বেমানান। সেই সঙ্গে পুলিশি নির্মমতার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল আমেরিকায়, সেটিও আমেরিকার আপাত নাজুক অবস্থা উন্মুক্ত করে দিয়েছে সবার সামনে। করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বেকারত্ব বেড়ে গেছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ইরাকযুদ্ধের পর স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নগামী অবস্থায় রয়েছে। চীনের সঙ্গে যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে, তাতে ভুগছে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। আমেরিকার কৃষক সম্প্রদায় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন। মার্কিন কৃষিপণ্যের একটি বড় ক্রেতা চীন মার্কিন কৃষিপণ্য কিনবে না—সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

করোনার ফলে যে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বৈশ্বিকভাবে এত দিন ধরে আমেরিকার ‘নেতৃত্বদানকারী’ হিসেবে যে সুপ্রিমেসি ছিল, করোনাসৃষ্ট বিপর্যয়ে তা ধরে রাখার কিংবা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে আরেকবার ‘আস্থার জায়গা’ হওয়ার সুযোগ ছিল আমেরিকার সামনে। কিন্তু বাকি বিশ্বের কথা বাদ দিলেও নিজ দেশেই ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর মার্কিন জনগণ। শুধু বিশাল অঙ্কের সামরিক ব্যয় এবং নব্য উদারনীতিবাদের মতো বাণিজ্যিক নীতি যে জনগণকে মহামারির হাত থেকে বাঁচাতে পারে না—এ কথা মার্কিনিরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন করোনার আগ্রাসনের পর থেকে।

প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যমগুলো মনে করছে, অধিকাংশ ভোটারের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। এ কারণে নির্বাচনে তিনি হারবেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও এখন অনেকটা উদ্বেগের চিহ্ন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এখন অনেকেই ধারণা করছেন, আসছে নির্বাচনে ট্রাম্প শুধু হারবেন না, নিজের দলকেও হারাবেন, যেখান থেকে রিপাবলিকান দলের উঠে আসা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

কিছুদিন আগেও সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের সঙ্গে কিছু অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনমত কাছাকাছি ছিল। সেগুলোতেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। উইসকনসিন, পেলসিলভানিয়ার জনমত এখন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ঝুঁকে আছে। জর্জিয়াকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম সমর্থকদের রাজ্য মনে করা হলেও সর্বশেষ জরিপে জো বাইডেনের সঙ্গে জর্জিয়ায় ট্রাম্পের অবস্থান সমান সমানে চলে এসেছে। মেইন, নেব্রাস্কার কিছু এলাকার হিসাব করে ‘কুকস পলিটিক্যাল’ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, জো বাইডেনের পক্ষে এখনই ২৭৯টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত হয়ে আছে। সংখ্যাটি নির্বাচনে জয়ের জন্য ৯ ভোট বেশি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান দলকে হোয়াইট হাউজ হারানোর চেয়েও বেশি মূল্য দিতে হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে আরো কিছু আসন হারাতে হতে পারে রিপাবলিকানদের। সিনেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও জোরদার হয়ে উঠেছে। তাছাড়া চীন কোনোভাবেই প্রত্যাশা করে না তার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় পশ্চিম বিশ্ব আমেরিকা জোট তৈরি হোক। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই যে সমস্যাগুলো তৈরি করেছেন, সেগুলো ট্রাম্প আরেকবার পুনর্নির্বাচিত হলে কোনোভাবেই সমাধান হবে না, আরো গভীরে পতিত হবে। তাই চীন যে কোনোভাবেই ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে আরো চার বছরের জন্য দেখতে চায়। সব সংকট কাটিয়ে ট্রাম্প কি আবারও চার বছরের জন্য ক্ষমতায় আসবেন—তা সময়ই বলে দেবে।

n লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়