স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
টানা বৃষ্টি ও করোনার মধ্যেই বন্যার পানি রাজশাহীর বাগমারা ও মোহনপুর এলাকার পানের বরজে স্থায়ী হচ্ছে। এসব কারণে গাছের গোড়া পচে পানপাতা ঝরে পড়ছে। এছাড়া করোনায় বাজারে নিয়ে দাম পাচ্ছেন না পানচাষিরা। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টির পর কোনো কোনো এলাকায় বন্যার পানি পানের বরজে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলায় ৪ হাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে পানের বরজ রয়েছে। এসব পানের বরজ জেলার বাগমারা, মোহনপুর ও দুর্গাপুর উপজেলায়। এবার পান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬৮ হাজার ৯৭৬ মেট্রিক টন। গড়ে ৪০ টাকা বিড়া দাম ধরে এক টন পানের দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রাজশাহীতে বছরে গড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার পান বেচাকেনা হয়। পান চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ৬৯ হাজার ২২৮ জন কৃষক।
মোহনপুর উপজেলার আমরাইল গ্রামের পানচাষি মিলন বলেন, এক বিঘা জমিতে একটি পানের বরজে বছরে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়। বাজার ভালো হলে খরচসহ ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় পান বিক্রি করা যায়। কিন্তু এবার করোনার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেকের বরজই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন বন্যার পানি বরজে ঢুকে পড়লে তাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। আরেক পানচাষি আহসান হাবিব বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক পানের বরজ হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাছ, আর পচে যাচ্ছে পাতা। পান ভেঙে বাজারে তুললেও নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালে দোকানপাটে পান বিক্রি কমে আসায় কমে গেছে চাহিদা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক শামসুল হক বলেন, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে শহরের ছোট ও ভাসমান দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে। অনেক বড় দোকানও বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে পানের দাম এখন কম। এদিকে রাজশাহীর পান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেত। কিন্তু করোনায় বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় পান রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে করোনা দুর্যোগের কারণে অনেকেই দোকানে গিয়ে পান খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। এ সবকিছুই পানের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
