প্রায় বিচ্ছিন্ন মেহেরপুরের নবীনগর গ্রাম
কোরবানির হাটেও ভিড় নেই
এনামুল হক, খুলনা অফিস
কোরবানির ঈদ আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও খুলনায় এখনো ঈদের বাজার জমে ওঠেনি। বিগত ঈদের তুলনায় এবারের কোরবানির ঈদের বাজারে ক্রেতার সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকেরও কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়েই মূলত ক্রেতারা মার্কেটমুখি হচ্ছে না। আর যারা আসছেন, তারাও দরদাম করে চলে যাচ্ছে। অপর দিকে, নগরীর জোড়াগেট কোরবানির পশুর মার্কেটেও নেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নগরীর পিকচার প্যালেস এলাকার এশা চেম্বারের কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, হতাশা নিয়ে বসে আছি। এ ঈদে কাপড় এমনিতে কম বিক্রি হয়। আর এবারে কাস্টমারের দেখাই মিলছে না। পাশেই টেইলারিংয়ের দোকান ‘ড্রেস কটেজে’ নিশ্চুপ বসে আছেন মুহাম্মদ জাফর শেখ। তিনিও একই রকম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানান, কোনো কাজ নেই। এবার কেউই আসছেন না পোশাক তৈরি করাতে। বড় বাজারের আসলাম অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আসলাম হোসেন বলেন, করোনার কারণে গত ঈদুল ফিতরে দোকান খুলতে পারিনি। ঈদুল আজহায় মার্কেট খুললেও খুব বেশি ক্রেতা নেই। যারা আসছেন, তারা দেখে দরদাম করছেন। দুই একজন কিনলেও অধিকাংশ ক্রেতাই চলে যাচ্ছেন।
কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা থাকে প্রচুর। ফলে নগরীর বড় বাজারে এ সময় ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুরসত পর্যন্ত থাকে না। কিন্তু এবারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। ব্যবসায়ী গোবিন্দ সাহা বলেন, এবারে যে বেচাকেনা হচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু অন্য বারের তুলনায় অনেক কম। বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত কাস্টমার তেমন একটা হয়নি। এরপর দুই একজন আসছেন। রেহানা আক্তার নামে একজন নারী ক্রেতা বলেন, কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসলেও ঈদের কেনাকাটায় মানুষের মধ্যে আগ্রহ নেই। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। ফলে তাদের মধ্যে ঈদের আমেজ নেই। এদিকে, গত ২৬ জুলাই থেকে নগরীর জোড়াগেটে বসেছে খুলনা বিভাগের সর্ববৃহত্ কোরবানির পশুর হাট। তবে, এবারের কোরবানির পশুর হাটে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। জোড়াগেট কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কেসিসির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, করোনার কারণে ক্রেতাদের মধ্যে হাটে আসার ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে বুধবার থেকে যথেষ্ট ক্রেতা হাটে আসছেন।
