করোনা দুর্যোগে পালটে গেছে কোরবানির পশুর হাটের চিত্র
নিলয় মামুন
আনুষ্ঠানিক কেনাবেচা শুরু হয়েছে রাজধানীর পশুর হাটে। তবে ক্রেতা সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম কমিয়েও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। গত মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর ১৬টি অস্থায়ী ও দুটি স্থায়ী হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হয়। কিন্তু প্রতি বছর ক্রেতাদের যে ভিড় দেখা যেত এবার তা নেই। করোনার কারণে পালটে গেছে হাটের চিত্র। যার কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা।
রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরুর দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। কুষ্টিয়ার আব্দুল করিম ব্যাপারী মেরাদিয়া হাটে ১৫টি গরু তুলেছেন এবার। দুই দিন চলে গেছে। এর মধ্যে দামাদামি করলেও একটি গরুও বিক্রি হয়নি। অবিক্রীত থেকে গেলে এসব গরু কসাইদের কাছে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এবারের মতো আর কখনোই এমন হয়নি। করোনার কারণে হয়তো মানুষের কাছে টাকা নেই। তাই আমাদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের শিয়ালডাঙ্গা হাটে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতাসমাগম অনেক কম। মাইকে সারাদিন ঘোষণা দিলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। খিলক্ষেতের বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, ‘এই হাট থেকেই আমি গরু কিনি। তবে এবার ছোট গরু কোরবানি দেওয়ার জন্য চিন্তা করছি। এখনো বাজেটের মধ্যে গরু খুঁজে পাইনি। বেশির ভাগ মানুষের করোনার কারণে সক্ষমতা কমেছে।
ব্যাপারীরা জানান, ঈদের বাকি আর মাত্র দুই দিন। অথচ আশানুরূপ দাম বলছেন না ক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, করোনায় আয় কমে যাওয়ায় কোরবানির বাজেট কমে গেছে। ঝিনাইদহের গরুর ব্যাপারী আবুল হোসেন জানান, যে গরুর দাম ১ লাখ টাকা, ক্রেতারা সেই গরুর দাম বলছেন ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ লাখের কম বিক্রি হলে লোকসান হবে। কারণ গ্রামেই এই গরু ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তার ওপর ঢাকায় আনার খরচ প্রায় ৫ হাজার টাকা। তবে তিনি আশাবাদী সামনের দুই দিন কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন।
বেশির ভাগ হাট ঘুরেই এমন দৃশ্য দেখা গেছে। করোনায় পালটে দিয়েছে সব সমীকরণ। শেষ দিকের বেচাকেনায় হয়তো ভাগ্য ঘুরবে এ আশায় রয়েছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে এবার রাজধানীর বাসাবাড়িতে পশু জবাই দেওয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকে কোরবানি দেওয়া থেকে সরে এসেছেন। আবার অনেকে কোরবানি দিচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে।
