সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২১

নতুন বছর মানে নতুন হিসাব-নিকাশ, নতুন সম্ভাবনা। পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশে গত এক দশকে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, পদ্মা সেতুসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্প গ্রহণ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক উন্নতি, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষাখাত, গড় আয়ু বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে আজ প্রশংসিত। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জনে জোর দিতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধে বেশি জোর দিতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিলে চলবে না। দেশের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। এই দুর্নীতি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। যতই প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ধনী-গরিব আয় বৈষম্য ততই বাড়ছে! এক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একটা গোষ্ঠী সবসময় মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে বাজার থেকে ফায়দা লুটের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। এদের কারণে জনসাধারণের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই কালোবাজারি ও মজুদদারিদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলমান রাখতে হবে। শ্রমের ন্যায্যমূল্য যাতে নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আরও গুরুত্বারোপ করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে জোর দিতে হবে।

দুঃখের কথা, পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথমসারির দেশগুলোর একটি। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ভুগছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় চলমান সব প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, বর্জ্যদূষণ, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ করতে হবে। রাজধানী ঢাকার পরিবেশ রক্ষার দিকে বেশি নজর দিতে হবে। দেশের প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে সহিংসতা, হানাহানি খুব একটা দেখা যায়নি। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তাই বলা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত স্থিতিশীল হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন তত ত্বরান্বিত হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সর্বস্তরে গণতন্ত্র ও কল্যাণকর রাজনীতি কাম্য। রাজনীতিবিদদের নীতির প্রশ্নে আপোসহীন থাকতে হবে। তবে যাই বলা হোক না কেন, উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সব বাধা দূর করার পাশাপাশি প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। তরুণ সমাজ দীর্ঘ সময় ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। তাই ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দ্রুত চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়াতে হবে। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের আবেদন ‘ফি’ উঠিয়ে দিতে হবে। তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে পারলে দেশটা বদলে যেতে বেশি সময় লাগবে না।

n লেখক:শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়